রায়পুরে দু’দিন আটক রেখে হাত-পা বেঁধে গৃহবধুকে নির্মম নির্যাতন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সালমা বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধুকে ৪ দিন অভুক্ত রেখে ঘরের একটি কে আটকে হাত-পা বেঁধে  নির্মম নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে কেরোয়া ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের আহম্মদ আলী পাটোয়ারী বাড়িতে। বুধবার সকালে বাড়ির লোকজনের সহযোগীতায় অভিভাবকরা নির্যাতিত গৃহবধুকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।  এঘটনায় গৃহবধুর পরিবারের লোকজন মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
বুধবার বিকেলে রামগঞ্জের পানপাড়া গ্রামের অব্দুর রশিদ জানান, প্রায় ৭ মাস আগে তার মেয়ে সালমাকে বিয়ে করেন রায়পুরের কেরোয়া ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের

আহম্মদ আলী পাটোয়ারী বাড়ির শহিদ উল্যাহর ছেলে মোরশেদ আলম। বিয়ের কয়েক মাস পর মোরশেদ ৫ ল টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য  সালমাকে প্রায়ই শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করত। গত ২৬ মার্চ রাতে সালমার সঙ্গে  সেই যৌতুকের টাকা নিয়ে মোরশেদ ঝগড়া করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একদিন কথা না বলে মোরশেদ  ২৭ মার্চ রাতে সালমাকে একটি কক্ষে আটক রেখে হাত-পা বেধে  শরীরিক নির্যাতন করে। ক্ষুধার্ত সালমা ৪  দিন ওই কক্ষে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করলেও ওই কক্ষ থেকে তাকে বের হতে দেয়া হয়নি। এইকয়দিন সালমাকে না দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজন খোজখবর নিতে তার ঘরে যান। স্বামী ও তার পরিবারের দ্বারা নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। পরে অভিভাবকরা  এসে সালমাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
গৃহবধু সালমার মামা যুগান্তরের রামগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ মোহন জানান, অভুক্ত ও নির্যাতিত সালমাকে  উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

যোগাযোগ করা হলে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার গুলময় পোদ্দার বলেন, নির্যাতনে গৃহবধুর যৌনাঙ্গ ত হয়ে রক্তরন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩/৪ দিন খাবার খেতে না পারায় অসুস্থ ও দুর্বল হয়েছে। রক্তরন বন্ধ না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
এঘটনা পর থেকে অভিযুক্ত মোরশেদ ও  তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তাদের স্বজনরা নির্যাতনের কথা স্বিকার করেছেন।

রায়পুর থানার পরির্দশক (ওসি/তদন্ত) নাছিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, গৃহবধুকে নির্যাতনের কথা পুলিশকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।