কুতুবদিয়ায় আকষ্মিক ঝড়ো হাওয়ায় ১৫টি ফিশিং ট্রলার ও ৪শ’ জেলে নিখোঁজ

গত ৪ এপ্রিল জুমাবার সকালে বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে কুতুবদিয়া দ্বীপের উপকুলের ছোট বড় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলার এবং ৪শ’ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। কুতুবদিয়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি কর্তৃপ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত সাগর থেকে কুতুবদিয়ার উপকুলে ফিরে আসার পথে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের হাজী জালাল আহম্মদের মালিকানাধীন এম বি মমতাজ ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়লে ৫জন মাঝি-মাল্লা সমুদ্রে পড়ে যায়। তাদের অপর আর একটি ফিশিং ট্রলার উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন বলে জানায় মাঝি নুর হোসেন। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবরের মালিকানাধীন এম বি রুমা কার্গো ট্রলার উপকুলে ফেরার পথে ২ জন মাঝি-মাল্লা ঝড়ের কবলে পড়ে সমুদ্রে পড়ে যায়। তাদেরকে নৌবাহিনী উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে চেয়ারম্যান। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের এফ,বি অল্লাহর দান, একই ইউনিয়নের নয়াপাড়ার এফ.বি নাজু, চরধুরুং এলাকার এফ.বি ইসলাম, দণি ধুরুং ইউনিয়নে এফ.বি হোসেন, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের এফ.বি তানভির, উত্তর ধুরুং চুল্লার পাড়ার এফ.বি হাশেমসহ বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার সাগরে আকষ্মিক ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে।

এসব ফিশিং ট্রলারে ৪৫ জন জেলে বিভিন্ন ট্রলারের মাধ্যমে উপকুলে ফিরে এলেও অধিকাংশ জেলে এখনো উপকূলে ফিরে আসেনি। সাগরে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়া ফিশিং ট্রলারের মালিকের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল তি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ব্যাপক ফসলি জমির তি হয়েছে। লবণ মাঠের উৎপাদিত লবন তলিয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২১শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এসব ফসলি জমিতে ধানের রেনু আসতে শুরু করেছে। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় কবলে পড়ে এসব রেনু ঝরে পড়ে ফসলে ব্যাপক য়-তির আশংকা করছেন অধিকাংশ কৃষক। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কৃষক মোসলেহ উদ্দিন জানায়, তিনি চলতি মৌসুমে ২ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার কারণে রেনুধরা ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া লবন মাঠে উৎপাদিত লবন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক তি হয়েছে।

কুতুবদিয়ার বিশিষ্ট ফিশিং ট্রলার ব্যবসায়ী মোঃ জয়নাল আবেদিন জানান, গতকাল শুক্রবার কুতুবদিয়ার উপকুল থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায় প্রায় ৫০০ ফিশিং ট্রলার। এসব ট্রলারে গভীর সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় বৈরী আবহাওয়ার  দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। এপর্যন্ত কুতুবদিয়া উপকুলের গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ১৫টি ফিশিং ট্রলার ও ৪০০ জেলে এখনো উপকূলে ফিরে আসেনি। উপকুলের নিকটবর্তী এলাকায় ৫টি ফিশিং ট্রলার দূর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রলার গুলো সাগরে ডুবে যায়। দূর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রলারের জেলেদের অধিকাংশ জেলে অন্য ট্রলারের সাহায্যে উপকুলে ফিরে আসে।

এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বনি আমিন খাঁন জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ২১শত হেক্টর বোরো ফসলি জমির ফসল হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার কারণে তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো য়-তির পরিমান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।