দোহার ট্রিপল মামলার ১২ আসামি কারাগারে

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দোহার উপজেলার বিলাসপুর গ্রামে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় ১২ আসামিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা শিউলি আদালতে  আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আসামিরা। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যে আসামিদের পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, হাজী মোহন চোকদার, ছোরফান শেখ, সেলিম চোকদার, লিটন চোকদার, সোহেল, বিশা চোকদার, কামাল চোকদার, উদু চোকদার, শেখ আলী মাতবর, সেলিম চোকদার, খোকন বয়াতি ও তোতা চোকদার।

গত ২৪ মার্চ এ মামলার আরো ১৩ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছিল আদালত।

গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের হাজার বিঘাগ্রামে গত ৬ জানুয়ারি সকালে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান খানের সমর্থকরা নির্বাচনে বিজয়ী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সমর্থকদের ওপর হামলা করে ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান।
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা গ্রুপ ও এই এলাকার হুকুম আলী চোকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  ঘিরে এ বিরোধ আরো জোরালো হয়।

দু’পক্ষই আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। কিন্তু এ নির্বাচনে হুকুম আলী চোকদার গ্রুপ আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের পক্ষে ও আলাউদ্দিন মোল্লার গ্রুপ জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনে কাজ করে।

নির্বাচনে সালমা ইসলাম জয়ী হলে হুকুম আলী চোকদার গ্রুপের লোকজন আলাউদ্দিন মোল্লার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে সোমবার সকাল ৯টার দিকে হুকুম আলী চোকদারের লোকজন আলাউদ্দিন গ্রুপের সমর্থক মুসা খন্দকারের বাড়িতে হামলা চালায়।

ওই ঘটনায় সালমা ইসলামের সমর্থক মুসা খন্দকার (৫০), তার ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৮) ও  আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের ভাগ্নে মকবুল মুন্সী (৩৬) নিহত হন। আহত হন অনেকে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মুসা খন্দকারের ভাই মোতালেব খন্দকার বাদী হয়ে দোহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় ৭ জানুয়ারি  আনোয়ার চোকদার, খোকন চোকদার, তোতা চোকদার ও আলী চোকদারকে  গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে তিনদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

গত ৪ মার্চ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করে আত্মসমর্পণকারীরাসহ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

মামলার চার্জশিট থেকে মান্নান খানের ভাই মোতালেব খানসহ ৪ জনের নাম বাদ দেয়া হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুঁলি আনোয়ারুল কবির বাবুল এপ্রতিবেদককে জানিয়েছেন আগামি ১ এপ্রিল মামলাটির চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। ওইদিন তারা মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া চারজনের বিরুদ্ধে নারাজি দরখাস্ত আদালতে শুনানি করবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।