কক্সবাজার শহরে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি

কক্সবাজার শহরের আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ফাঁকি দিয়ে চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসীরা পুরো শহরকেই হাতের মুঠোয় নিয়ে নিত্যদিনেই অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। যার কারণে শহরবাসী আতংকের মধ্যে দিন পার করছে। তৎমধ্যে শহরে বর্তমানে মুর্তিমান মানুষের আতংকের একটি নাম সেটি হল অপরাধ জগতের রকি বাহিনী।

কক্সবাজার মডেল থানায় খুন,চাদাবাজি,অপহরণ,ছিনতাইসহ ডজন খানেক মামলা মাথায় নিয়ে পুরো শহর চষে বেড়াচ্ছে মিজবাহ উদ্দীন রকি,সৌরভ,ও পাহাড়তলীর রফিক-দিলু। তারা দিব্যি ঘুরে বেড়ায় খোদ থানাতেও। থানার কতিপয় কর্মকর্তাদের মোটা অংকে ম্যানেজ করে প্রতি মাসে ব্যাংকে লেনদেন করতে যাওয়া-আসা জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদেরকে প্রকাশ্যে দিবালোকে একের পর এক ডাকাতি করে আসছে ওই বাহিনীর সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী, ইসলামপুর, ইসুফআলী ঘোনা, দণি রুমালিয়ার ছাড়া,বাঁচামিয়ার ঘোনা,এবিসি ঘোনা,ফাতের ঘোনা,বাদশা ঘোনা, বৈদ্যরঘোনার একাংশসহ আশ-পাশের পাহাড়ী এলাকায় অঘোষিত আধিপত্য ও রাজত্ব বিস্তার করছে রকি বাহিনী। রকি,সৌরভ,রাফিক-দিলুসহ আরো বেশ অপরাধ জগতের ডনদেরকে নিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের আড়াঁলে গড়ে তুলেছে তাদের নিজস্ব আস্তনা। সেই আস্তনা গুলিতে ছিনতাই-চুরি,ডাকাতি করার পর সেখানে ভাগবাটোয়ারাসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্ল্যান-প্রোগ্রামের সিডিউল তৈরি করে করে তারা। তাদের বাহিনীগুলোতে রয়েছে শতাধিক সন্ত্রাসী। তারা উল্লেখিত এলাকা ছাড়াও পুরো শহরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

অন্যদিকে তাদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এমনকি ১০/১২ জন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে পালিয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান সৌরভ,দিলু,রফিক ও রকি এই বাহিনী প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে ছিনতাই ও জমি দখল করে। রুমালিয়ার ছাড়া আঁলির জাহাল, এবিসি ঘোনা, সমতি পাড়া এমন কোন ব্যবসায়ী নেই, এই সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয় না।

উল্লেখ্য-যে ইতি পুর্বে এই বাহিনী স্কুল-ছাত্রকে অপহরণ,১৯ মার্চ পিএমখালীর ও তোতকখালী প্রবাসীর থেকে রুমালিয়ার ছাড়া হাশেমিয়া মাদ্রাসার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে ৫ল টাকা ছিনতাই এবং সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সিএনজি যোগে বাড়ী ফেরার পথে আঁলির জাহাল এলাকার বনফুল নার্সারীর প্রধান সড়কস্থ ছিনতাইয়ের শিকার হয় লিংক রোডের দণি মুহুরী পাড়া এলাকার মামুনুর রশিদ নামে একজন চিংড়ি ব্যবসায়ী।

মামলা সুত্রে আরো জানা যায় (কক্সবাজার-থ-১১-২১৮৮) নম্বরের অপর একটি সিএনজি হঠাৎ তাদের গাড়ি গতিরোধ করে। গাড়ি থামালে দ্রুত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের করে মারধর করতে থাকে। এসময় রকি নিজের হাতে থাকা দুটি পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে রকি বাহিনির সাথে থাকা রফিক,দিলোসহ মুখোশ পড়া বেশ কয়েজন সন্ত্রাসী ওই ব্যবসায়ী থেকে নগদ ৯ ল ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মামুন বাদী হয়ে মিজবাহ উদ্দিন রকিকে প্রধান ও একজনকে অজ্ঞাত নামায় আসামী করে তিন জনের বিরুদ্বে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা একখানা দ্রুত আইনের মামলা দায়ের করে। এতে রুমালিয়া ছড়ার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজবাহ উদ্দিন রকি, পাহাড়তলী এলাকার আবুল মাঝির ছেলে রফিক, দিলুকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে অজ্ঞাত ১ জনকে আসামী করা হয়। যার মামলা নং-১৩, ৩ এপ্রিল।

এদিকে শহরের সচেতন মহলের দাবী শহরের রুমালিয়ার ছড়ার রকি সৌরভ বাহিনী ও পাহাড়তলী রফিক, দিলু বাহিনীকে দমানো না গেলে  প্রতিনিয়ত ডাকাতি, ছিনতাই-চাঁদাবাজি-দখলবাজিসহ  প্রাণহানীর ঘটনা নিয়মিত বাড়তেই থাকবে। শিগগিরই এসব এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আটক করলে শহরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কিছুটা  কমবে।

এব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাইল আহমদ জানিয়েছেন, শহরে গুঁটি-কয়েজন র্দৃবৃত্ত বেপরোয়া হয়ে চুরি-ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে। তাদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশাকরি তারা দ্রুত আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।