কক্সবাজার পাউবোতে ঠিকাদারের অর্ধকোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের এস.ডি এবং এস.ও প্রতারণার মাধ্যমে এক ঠিকাদারের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আতœসাৎ করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই দুই কর্মকর্তা পিসি’র নামে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তাদের আরো ৫ লাখ টাকা ঘুষের দাবী পূরণ করতে না পারায় ওই ঠিকাদারের কাজের বিলের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আতœসাৎ করার পায়ঁতারা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার ইতিমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের প্রধান হিসাব রণ কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে পেকুয়ার মগনামার কাকপাড়া বেড়িবাঁধের (৬৪/২বি) ভাঙ্গন সংস্কারে টেন্ডার আহবান করে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু কাজটি জটিল ও লোকসানের হওয়ায় তিন বার টেন্ডার আহবান করলেও কেউ সাড়া দেয়নি। এমনকি পাউবোর তৎকালীন নিবার্হী প্রকৌশলী ৮ জন ঠিকাদারকে ডেকে ব্যক্তিগত ভাবে অনুরোধ করার পরও কেউ কাজটি করতে সাহস দেখাননি।

এক পর্যায়ে তৎকালীন নিবার্হী প্রকৌশলী মাইনুদ্দীন ও এলাকাবাসীর অনুরোধে কাজটি করতে সম্মত হন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার স¤পাদক ও মগনামার সন্তান ঠিকাদার আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তৎকালীন নিবার্হী প্রকৌশলী বদরখালীর এসডিকে মের্সাস আলম স্টোর, ফারিয়া ট্রেডিং ও মনির আহমদ এর নামে তিন ভাগে কাজটি স¤পন্ন করতে দায়িত্ব দেন। এর পর কর্মকর্তাদের অনুরোধে ঠিকাদার আবু হেনা মোস্তফা কামাল ৪ দফায় ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৭০ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কার করেন।

কিন্তু ফারিয়া ট্রেডিং ও মনির আহমদ এর নামে এ পর্যন্ত কার্যাদেশ দিতে ব্যর্থ হন এসডি। পরে কোন মতে মেসার্স আলম ষ্টোরের কাজের বাবদ ১৪ লাখ ৭ হাজার ৫৫৪ টাকা উত্তোলন করে দেনা শোধ করেন ওই ঠিকাদার। সেখান থেকেও পিসি’র নামে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা এটিএম মাসুদুর রাব্বি। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় আরো টাকা নেন তিনি। পরে ফারিয়া ট্রেডিং ও মনির আহমদ এর ৪৮ লাখ টাকার কাজের বিল দিতে আরো ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন শাখা কর্মকর্তা রাব্বি। কিন্তু ঠিকাদার আর টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় অন্য জনের নামে বিল করে পুরো ৪৮ লাখ টাকা মেরে দেয়ার হুমকি দেন তিনি। এর অংশ হিসেবে এক জামায়াত নেতাকে দিয়ে নতুন করে নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে এসব টাকা আতœসাতের পায়ঁতারা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা এটিএম মাসুদুর রাব্বি’র মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।