আজ কুতুবদিয়ায় দু’কেন্দ্রে পূণ:নির্বাচন

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের স্থগিত দু’কেন্দ্রে পূণ: নির্বাচন হচ্ছে আজ। গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টির ফলাফল ঘোষনা হরা হলেও প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে ব্যালট পেপার ছিনতাই,জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল সহ নানা অভিযোগে তেলিয়াকাটা সরকারি প্রা.বিদ্যালয় ও পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রা.বিদ্যলয় কেন্দ্র দু‘টি স্থগিত করেন কৃর্তপ। আজ বুধবার(৯ এপ্রিল) স্থগিত দু‘কেন্দ্রে পূণ:ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়,তেলিয়াকাটা সরকারি প্রা.বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার ২,১১১ জন এবং পশ্চিম লেমশীখালী সরকারি প্রা.বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ৩,০৯৬ জন। উভয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৫,২০৭ জন। নির্বাচনে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আ‘লীগের দু‘প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় জামায়াতের প্রার্থী আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী(আনারস),বিএনপি‘র এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী(ঘোড়া),বিএনপি‘র বিদ্রোহী প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ(মটর সাইকেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুর আলম সিকদার(দোয়াত-কলম) এই ৪ প্রার্থীর মাঝে প্রতিদ্বন্ধিতা হয়।

দনি ধুরুং,উত্তর ধুরুং ও লেমশীখালী ইউনিয়নের ৭/৮ টি কেন্দ্রে মনজুর আলম সিকদারের কর্মী-সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই,কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ সহ গোলযোগের সৃষ্টি করে। দু‘টি ছাড়া বাকী কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহন সাময়িক বন্ধ করে পূণ: ভোট গ্রহন চলে। ৩৪ কেন্দ্রের ফলাফলে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাকের উল্লাহ ১০৩৩৪ ভোট, আ‘লীগ সমর্থিত(পরে) মনজুর আলম সিকদার ৯২৬৯ ভোট,সরে দাঁড়ানো আ‘লীগের শফিউল আলম ৪৭ ভোট এবং মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ২৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে ছিটকে পড়েন। শীর্ষে থাকা বিএনপি‘র নুরুল বশর চৌধুরী ১৫৯৩২ ভোট ও নিকটতম জামায়াতের শাহরিয়ার চৌধুরী ১৩৪৩৪ ভোট পান। দু‘প্রার্থীর মাঝে ব্যবধান ২৪৯৮ ভোট। উভয় কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ৫২০৭ জন।

অপর দিকে ৩৪ কেন্দ্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদে হুমায়ুন কবির হায়দার(তালা) পেয়েছেন ১৫৫৭৪ ভোট। তার নিকটতমে রয়েছে জিয়াউল করিম চৌধুরী(চশমা) ১৪৩৮৩ ভোট,রমিজ আহমদ(টিউবওয়েল) ১০৩৭০ ভোট,কফিল উদ্দিন(টিয়াপাখি) ৫৪৯১ ভোট এবং আকবর খান(উড়োজাহাজ) ২৫১৪ ভোট। শীর্ষে থাকা দু‘প্রার্থী হুমায়ুন কবির হায়দার ও জিয়াউল করিম চৌধুরূ মাঝে ভোটের ব্যবধান ১১৯১ ভোট।মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০৬৩৫ ভোট পেয়ে তিনি ইতিমধ্যে জয় লাভ করেছেন। চেয়ারম্যান পদে আড়াই হাজার ভোট এগিয়ে থেকে নুরুল বশর চৌধুরী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবে কেন্দ্র দু‘টি উত্তরজোনে অর্থাৎ শাহরিয়ার চৌধুরীর এলাকা ধরে নিয়ে আঞ্চলিকতার টানে ভোটাররা একচেটিয়া তাকে সমর্থন দেবে এই আশায় হাল ছাড়েননি তিনি। প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন,তার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশী হয়রানি করা হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে ভোটারদের। বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকগন ভোট দিলে ৫০০ টাকা, আর ভোট কেন্দ্রে না গেলে ১০০০ টাকা দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গত ২৩ মার্চ কয়েকটি কেন্দ্র দখলের কারণে ভোটাররা ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছে।এবার দু‘কেন্দ্রের ভোটারদের  সুযোগ এসেছে। তারা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে বলেন ভোটারেরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।