চকরিয়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট অব্যাহত

কক্সবাজারের গোটা জেলায় মঙ্গলবার দিনের শেষে প্রত্যাহার করে নিলেও অভিযান সংশ্লিষ্ট উপজেলা চকরিয়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌর শহরে মানববন্ধন করেছে ব্যবসায়ী ও বন্ধক দেওয়া সহস্রাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক। তবে প্রত্যাহারের আগেরদিন বাকী ৭ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করেছে চকরিয়া উপজেলা জুয়েলার্স সমিতি কর্তৃপক্ষ। পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে দেড় শতাধিক স্বর্ণ বিপনী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব স্বর্ণ বিতান কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে রাখা পাত্রের অভিভাবকরা। কারণ সঠিক সময়ে অলংকার সংগ্রহ করতে না পারা। এর প্রতিফলনও ঘটেছে সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে গেলে। অভিযানের দিন সোমবার থেকে জেলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির আহবানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ঘোষণা দিলে বন্ধ হয়ে যায় উপজেলার সব’কটি প্রতিষ্ঠান। এরপর আর কোন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের দোকানপাট খুলতে দেখা যায়নি। কর্মসূচি সফল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও হুমকি দিয়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের দাবি, জনগণের বন্ধকী স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। অভিযানের প্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে ধৃতদের চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযুক্ত করা হলেও পরিবার ও জুয়েলারি সমিতির নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে দফায় দফায় তাদের নির্দোষ দাবি করা হচ্ছে চলমান কর্মসূচি থেকে।

এদিকে উপজেলার বৃহত্তর ব্যবসায়ী সংগঠন চকরিয়া ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল হক সওদাগর- রাতের আঁধারে বিজিবির অতর্কিত অভিযান অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে আটক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী পিতা ও দুই পুত্রের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে বন্ধকী গ্রাহকের স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়াপূর্বক ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকারে প্রশাসনের নিরপেক্ষ সুদৃষ্টি কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।