বোর উৎপাদন বিপর্যয়ের আশংকা রায়পুরে ঘনঘন লোডশেডিং বোরোর ফলন নিয়ে উদ্বেগ্ন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো খেতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এ কারণে এবার বোরো ধানের ভালো ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। এ সমস্যার সমাধান না হলে পূবেরমত রাস্তা নেমে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সূত্র জানায়, উপজেলার হায়দরগঞ্জ, চরবংশী, চরমোহনা, চরপাতা, বামনী, কেরোয়া ও চরআবাবিল আংশিক এলাকায় গত এক মাস ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুতের অভাবে স্থানীয় কৃষকেরা বোরো খেতে সময়মতো পানি দিতে পারছেন না।
কেরোয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, গত এক মাস আগে দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেলেও এখন বিদ্যুৎ থাকে মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টা।
চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁরা বোরো খেতে সময়মতো পানি দিতে পারছেন না। এতে এবারের বোরোর ফলন ভালো হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
বামনী ইউনিয়নের কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, নিয়মিত বিদুৎ না পাওয়ায় ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে কৃষকেরা আর্থিকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছেন।
প্রধান সড়কের ব্যবসায়ি নিপুসহ কয়েকজন ােভ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি জনপ্রতিনিধিরা পলী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। তারা বরন লোডশেডিংসহ নানা অজুহাতে প্রায় সময় দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। এ কারণে  ব্যবসায়িরা বেশি তিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সংযোগ মেরামতের নামে প্রায়ই মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার একটি পৌরসভার ও ১০টি ইউনিয়ন মিলে ৫৬০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ-সংযোগ রয়েছে। আর গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। কয়েকদিন আগে দুইবারের ঝড়ে অনেক এলাকায় ২-৩ দিন বিদ্যুৎ ছিল না।
বামনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সালেহ আহাম্মদ বলেন, কয়েকজন কৃষক তার কাছেও আন্দোলন হুমকি দিয়েছেন। তাই ‘তিনি পলী বিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।
জানতে চাইলে রায়পুর পলী বিদ্যুত অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) মাহফুজুর রহমান বলেন, পলী বিদ্যুতের কোন তথ্য সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে অফিসে এসে তথ্য নিয়ে যাবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডক্টর একেএম শামীম আলম বলেন, চলতি মৌসমে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের করা হয়। দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকেরা বোরো খেতে পানি দিতে পারছেন না। তাই ডিজিল চালিম পাম্প দিয়ে পানির ব্যবস্থা করতে কৃষকদের বলা হয়েছে। এতে উৎপাদন বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।