৬দিনেও খোঁজ মেলেনি মাদ্রাসা শিক্ষকের

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গত ছয়দিনেও খোঁজ মেলেনি তাজল ইসলাম (৩৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের। থানায় সাধারণ ডায়রী করার পরেও তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চরম উদ্বীগ্ন ও হতাশ রয়েছেন। গত ১৩ এপ্রিল ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাজীগঞ্জ বালুঘাটে বালু কিনতে গিয়ে আর তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই শিক্ষক ভাটিয়ালপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসার সহকারী শিক ও করপাড়া গ্রামের ধোপা বাড়ীর আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।  তার সন্ধান পেতে তার বড় ভাই সহিদুল ইসলামসহ পরিবার খোঁজে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে বুধবার মধ্য রাতে আ.লীগের নামধারী প্রভাবশালীর প্ররোচনায় পুলিশ হরিচ্চর গ্রাম থেকে শাহআলমের ছেলে দিনমজুর আলমগীর হোসেন (২৬) ও আলিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুস (৩০) কে গ্রেপ্তার করেন। তাদেরকে দু’দিন থানায় আটক রাখা হয়। পরে তাদের এক আত্মিয় স্থানীয় খালেদ মাসুদ লিটন আটকদের ছেড়ে দেওয়া জন্য এসআই ফারুকের দাবিকৃত ২০ হাজার দেন। আরও ১০ হাজার টাকা না দেয়ায় গত হরতাল অবরোধের সময় থানায় দায়ের করা গাছ কাটার মামলার আসামী দেখিয়ে শুক্রবার সকালে তাদেরকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। তবে এসআই ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটির বিষয় দেখা হচ্ছে বলে জানান।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গত রবিবার সকালে শিক মাওলানা তাজুল ইসলাম বালু কিনতে রামগঞ্জ উপজেলার পাশ্ববর্তি ফরিদগঞ্জ উপহেলার হাজীগঞ্জের বালুর ঘাটে যান। ওই থেকে আজ ৬ দিন তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার শরিরের রং শ্যামল, তিনি ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, পরনে সাদা পায়জামা ও পাঞ্জাবি ছিল।

নিখোঁজ শিক্ষকের বড় ভাই মাওলানা সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাত সাত টায় দিকে একই মাদ্রাসার কামরুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন তিনি বালু কিনে অন্য গাড়ী করে বাড়ি ফিরছেন। তারপর থেকে তাজল ইসলামের মোবাইল বন্ধ থাকা অদ্যবদি খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি গত বুধবার রাতে রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, অপহরন হলে অপহরনকারীরা মুক্তিপন চাইতেন। তিনি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে অন্য কোথাও রয়েছেন বলে আমাদের ধারনা। তার পরেও নিখোঁজ শিক্ষক তাজল ইসলামকে খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু গাছ কাটা মামলার গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীর স্বজনদের কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।