ভান্ডারিয়ায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তের ছোড়া এসিডে ঝলসে গেছে এক কিশোরীর দেহ, গ্রেফতার-০১

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া এসিডে ঝলসে গিয়েছে এক কিশোরীর শরীর। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের নলকাটা গ্রামে এ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয় লাইলী আক্তার (১৯) নামের ওই কিশোরী। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাত দশটার দিকে প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এসিড আক্রান্ত কিশোরী লাইলী ধাওয়া নলকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের মেয়ে। কি কারনে ওই কিশোরী এসিড আক্রান্ত হয়েছে তার কারন এখনও জানা যায়নি।

 

ভূক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে কিশোরী লাইলী তার মামা ছন্দু হাওলাদারের ঘর থেকে মামাত বোন চম্পা আক্তারকে সাথে নিয়ে  নিজ মোবাইলে চার্জ দিতে প্রতিবেশী নূরু বকসের ঘরে দিকে যাচ্ছিল। ঘর থেকে নেমে ১০০ গজ দুরে যাওয়ার পর পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন কালো কপড়ে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা লাইলীকে লক্ষ করে এসিড ছুঁড়ে মেরে পালিয়ে যায়। এসিড আক্রান্ত লাইলীর আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ভা-ারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে জরুরী ভিত্তিতে বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে সে বর্তমানে চিকিৎসাধিন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভা-ারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. ইখতিয়ার আহম্মেদ জানান, ওই কিশোরীর শরীরে রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে। তবে এটি এসিড কিনা তা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাদের নেই। এতে ওই কিশোরীর মুখম-লের কিছু অংশসহ পীঠের বেশীরভাগ অংশই পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরী ভিত্তিতে বরিশাল মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কিশোরীর লাইলীর মা বিধবা  মানবরু বেগম জানান, কারা তার মেয়েকে এসিড ছুড়ে মেরেছে তা বোঝা যায়নি। কারন দুর্বৃত্তরা কালো কাপড়ে মুখোশ পড়ে আসছিল। তিনি র্আও জানান প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেনের সাথে তার বসত ঘরের ঝমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ দিন আগে প্রতিপক্ষ দেলোয়ার ও তার তিন ছেলে মিলে মানবরুকে ঘর থেকে নামিয়ে দিয়ে বসতঘর দখল করে নেয়। এরপর মেয়েকে নিয়ে সে একই গ্রামের বাবার বাড়ি ভাই ছন্দু হাওলাদারের ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানেই তার মেয়ে লাইলী এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়।
ভান্ডারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মতিউর রহমান জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে গত রাতেই একজনকে আটক করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।