সীমান্তের মংডু খালে কোস্টগার্ড-মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের মংডু খালের পাশে কোস্টগার্ডের সাথে মাদক ব্যবসায়ীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল জুমাবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে যাওয়া এঘটনায় কোস্টগার্ডের ৩সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। অন্যদিকে ওই বন্দুক যুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের ৩ সদস্য নিহত হয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকার আমিন প্রকাশ আমিন মাঝি, মহেশখালীর কালু, ইসলামপুরের জহির। আহতরা হলেন, কোস্টগার্ড সদস্য সামাদ এম.ই.ওয়ান, ফয়সাল এ.বি, কবলা মাঝি। তন্মধ্যে সামাদ ও ফয়সালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সি.এম.এইচে বিমান যোগে পাঠানো হয়েছে। অপরজনকে চট্টগ্রাম সি.এম.এইচে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও রহমত উল্লাহ, আলী জোহার, সুলতান, আবুল কালাম ও হাছান নামের আরোও ৫ ব্যাক্তি নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবী করেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বোটের আহত মোঃ হোসেন (৩৫)। আহত হোসেন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এব্যাপারে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার হারুনুর রশিদ জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের মন্ডু খালের পাশে অপারেশন পরিচালনা করি। এই খাল দিয়ে মদ ও ইয়াবা ভর্তি মিয়ানমারের একটি ট্রলার বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করছে নিশ্চিত হয়েই আমারা তাদের ধাওয়া করি। সীমান্তে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। মাদক ব্যাবসায়ীরা লোকাল অস্ত্র, সীসার তৈরী গুলি, মার্বেল ব্যবহার করে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরাও আত্মরার্থে ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করি। ঘটনায় আমাদের ৩জন লোক গুরুতর আহত হয়। সুযোগ পেয়ে মাদক বোঝাই বোটটি মায়ানমারের খালেই ঢুকে পড়ে। এছাড়াও নিহত ৩ব্যাক্তির ব্যাপারে জানান, তারা আসলেই ওই বোটে ছিল কিনা বা তারা মাদক ব্যবসায়ী কিনা তা নিশ্চিত করতে পারছি না।
এঘটনায় পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত, আহত ও নিখোঁজ ব্যাক্তিদের ডাকাতের হামলার শিকার দাবী করে মডেল থানার এস.আই সাইফুল গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, জুমাবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের পেশকার পাড়া বেড়িবাঁধ এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরোও জানান, নিহত ৩জনই ডাকাতের হামলায় মারা গেছেন। তারা ১৪ জন মাঝি সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ডাকাতের কবলে পড়ে মাঝিসহ ৩জন নিহত, ৫জন নিখোঁজ ও ১ জন আহত ও ৫জনকে অত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান। অন্যদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার সাহেদ উদ্দিন জানান, আমরা কাউকে উদ্ধার করি নাই। ওই ঘটনায় ৫জনকে আটক করেছি। আমাদের কাছে টেকনাফ থেকে তেমন কোন তথ্য আসে নাই। তাই লাশগুলোর ব্যাপারে আপাতত কোন কিছুই জানাতে পারছি না।
এদিকে ঘটনাটির রহস্য লুকায়িত রয়েছে বলে ধারণা অনেকের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।