টেকনাফে অবৈধ ব্যাবসায় রাতারাতি কোটিপতি!

কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা ও মানব পাচার ব্যবসা দ্রুত এবং ভয়ংকররূপে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবৈধ দূ’ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন অনেকে। বনে গেছেন রাতারাতি সহায় সম্পত্তির মালিক। আবার অনেকে ভিটে সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্বও হয়েছেন। তবে তা সফলতার চেয়ে অনেক কম। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা মরণ নেশা ইয়াবা ছড়িয়ে দিয়েছে দেশের সর্বত্রই। মানবপাচারকারীরা অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানব পাচার করতে গিয়ে সমূদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। এছাড়া মালয়েশিয়া পৌঁছে মুক্তিপন আদায় করতে না পারায়ও প্রাণ দিতে হয়েছে এদেশের নাগরিককে।
সচেতন মহলের মতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যবস্থা ও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ইয়াবা এবং মানব পাচার ব্যবসা ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে কানাছে।

 

তবে, সেই ইয়াবা নামক মরন নেশা থেকে মুক্তিপেতে সম্প্রতি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। ইয়াবার বিরুদ্ধে একধরনের অঘোষিতভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে তালিকাভূক্ত রাঘব বোয়ালরা। ইতিমধ্যে তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে পার পেয়ে যাচ্ছেন সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী দালালরা। সচেতনমহল মনে করেন ইয়াবার ব্যবসার বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে তেমনিভাবে মানবপাচারকারী দালালদের চিহ্নীত করে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ব্যবস্থা।
এপেশায় চিহ্নীত তালিকভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ছাড়াও নতুনভাবে ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।

 

স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, টেকনাফের কাঞ্জর পাড়া এলাকার আবদুল দইয়ান ও তাঁর ছেলে জিয়াবুল হক এককালে অবৈধভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পারাপারের নৌকার মাঝির কাজ করত। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার দেশীয় ভোগ্য সামগ্রী চোরাইপথে মিয়ানমারে পাচার করে কোন রকমে সংসার চালাত। কিন্তু সে অবস্থা এখন আর নেই ওই পরিবারে। রাতারাতি কোটিপতি হয়ে তৈরী করছে টাইল্সযুক্ত নতুন দালান বাড়ী। তেমনিভাবে হুন্ডি ব্যবসা ও মানব পাচারের দালালী করে ভিত্তবান হয়েছে আবদুল মালেক প্রকাশ হুন্ডি মালেক। তারা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বরাবরই রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন তাদের কারনে এলাকার অনেকে সন্তান হারা ও মাদক পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে যুব সমাজ।

 

অপরদিকে টেকনাফে লেঙ্গুর বিল এলাকায় মাদক ব্যবাসয়ী বৃদ্ধি পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে পুরো এলাকায় মাদক ছেঁয়ে যাওয়ায় সচেতন মহলের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  তারই ধারাবাহিকতায় টেকনাফে ইয়াবা বিরোধী জোরদার অভিযানে ক্রসফায়ারে হতাহতের ঘটনা ঘটলেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার ও ব্যাবসায়ী। নাম না প্রকাশ শর্তে লেঙ্গুর বিল এলাকার সচেতন কতিপয় যুবক অভিযোগ করে বলেন, উত্তর লেঙ্গুরবিলের গ্রামের আব্দুল গফুর প্রকাশ ওলা, মোঃ বশির, আব্দুর রহিম, পীযাশ আহমদ প্রকাশ বক্কর, মোঃ ইউনুছ, মোঃ গফুরসহ আরো  গডফাদার মিলে এলাকাকে মাদকের আস্তনায় পরিণত করছে। তাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ূয়া জানিয়েছেন, অপরাধীরা যতই বড় শক্তিশালী হোক তাদের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের ইয়াবা বিরুধী যৌথ অভিযানে শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।