রাতের আধারে সরকারি গাছ কেটে নিলো যুবলীগ নেতারা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি সরকারি গাছ রাতের আধারে কেটে নিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের  নেতাকর্মীরা। গত ৭দিন ধরে শনিবার রাত পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট-গাজী সড়ক থেকে তারা ওই গাছগুলো কেটে নিয়েছেন। তবে রহস্যজনক কারণে ইউপি চেয়ারম্যান, আ.লীগ নেতারা ও বন বিভাগ এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেয়নি।

 

রোববার (৪ মে) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, গত ৭দিন ধরে মিয়ারহাট-গাজী সড়কের দু’পাশে স্থানীয় উপকারভোগীদের লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির করই, মেহগনি ও আকাশমনিসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যর ৫০টি গাছ কেটে নিয়ে যায়।

 

স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মিন্টু ফরাজি ইন্ধনে ৮নং ওয়ার্ডের নুরুল হকের ছেলে ও যুবলীগ সভাপতি মাইনুদ্দিন বেপারী নের্তৃত্বে ফয়সাল শেকের ছেলে রকি ও রনি, হামিদ হাওলাদারের ছেলে আলমগীর, রহমান মোল্লার ছেলে মামুন, এবং ৭নং ওয়ার্ডের হাকিম আলী হাওলাদারের ছেলে ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল হোসেন, রশিদ ডাক্তারের ছেলে সাধারণ সম্পাক মান্নাসহ ১৫-২০ নেতাকর্মী রাতে ওই গছাগুলো কেটে নেন। গাছগুলো ওই এলাকার স্ব-মেল ও নেতাদের বাড়িতে রয়েছে।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই চক্রটি এভাবে একাধিকবার সরকারি গাছ কেটে নিলেও মতার দাপটের কারণে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

সরকারি গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মাইনুদ্দিন বেপারী বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় তিনি বা তার কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করে বলেন, ‘ওই সড়ক থেকে সরকারি কিছু গাছ কেটে নেয়ার কথা আমি শুনেছি। তবে কে বা কারা এ কাজ করেছে তা আমি জানি না।’

 

দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে বলেন, সরকারী সম্পদ দলের স্থানীয় ছেলেরা খেয়ে বেচে থাকবে। এতে রির্পোট করার কী আছে বলে কোন মন্তব্য করেননি।

 

উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গাছ কেটে নেয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেলে মামলা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনজুরুল হক আখন্দ জানান, গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।