চকরিয়া বাস টার্মিনালের সংস্কার না হলে ২১মে পরিবহণ পুরাতন স্টেশনে চলে যাবে

চকরিয়া শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করার দাবিতে ৫দফা বাস্তবায়নের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। উক্ত স্মারকলিপিতে ২০মে’র মধ্যে পৌর বাস টার্মিনালের যাবতীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা না হলে ২১মে টার্মিনাল ছেড়ে দিয়ে পুরাতন বাস স্টেশনে সকল পরিবহণ নিয়ে অবস্থান করার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। গত ৬মে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সংগঠনের (রেজিঃ নং বি-৭২৬) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা কমিটির সম্পাদক মোঃ কামাল আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ

 

কইদিন দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকের অনুলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও চকরিয়া পৌরসভা মেয়র এর কাছে। স্মারকলিপির বরাতে আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ কামাল আজাদ বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখার জন্য দেশী-বিদেশী অগণিত পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন এবং ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চকরিয়া বাস টার্মিনালটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দূর-দূরান্তের যাত্রী সাধারণ এই টার্মিনালে এসে নিজ নিজ গন্তব্যে গমন করে থাকেন। বর্তমানে এই টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নেই বললেই চলে। যাত্রীগণের কোন প্রকার নিরাপত্তা নেই। যার কারণে চোর, পকেটমার ও বখাটেদের আক্রমণে পড়তে হচ্ছে ভিআইপিসহ সাধারণ যাত্রীদের। ফলে এ টার্মিনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা না করায় দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাতে বসছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ এ বাস স্টেশনটি। তিনি আরো জানান, পর্যাপ্ত সুবিধাদি নিশ্চিত না হওয়ায় মাঝে মধ্যে টামির্নাল ছেড়ে পরিবহণ শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিলে নানান অজুহাতে শ্রমিক সংগঠনের ও পরিবহণ শ্রমিকরা রেহাই পাচ্ছেনা দুস্কৃতিকারীর কবল থেকে। রোষানলের শিকার হতে হয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাতে।

 

এদিকে আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও টার্মিনালের সুনাম বৃদ্ধিকল্পে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদারে উল্লেখিত দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে- (১) শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ করে দিনের বেলায় ৪জন কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ করতে হবে। (২) টার্মিনালে রাত্রিকালীণ যাত্রী ও পরিবহণের নিরাপত্তার জন্য ২জন নিরাপত্তা কর্মী (নাইট গার্ড) নিয়োগ করতে হবে। (৩) সন্ধ্যার পর টামির্নালে অবস্থানরত বহিরাগত লোক দ্বারা অসামাজিক কার্যকলাপ যথাক্রমে- মদ, গাঁজা, জুয়া, হেরোইন ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধের জন্য পুলিশী টহল নিশ্চিত করতে হবে। (৪) বর্তমানে এ টার্মিনালের মাঠের অবস্থা খুবই নাজুক।

 

খানা-খন্দক আর বড় বড় গর্তে মাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত টার্মিনালের মাঠ সংস্কার ও ময়লা আবর্জনা প্রতিনিয়ত সরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। (৫) টার্মিনালে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আলোর ব্যবস্থা নেই। নতুন লাইট সংযোগ করে টার্মিনালকে আলোকিত করতে হবে। উপরোক্ত দাবিসমূহ ২০মে’১৪ইং তারিখের মধ্যে পূরণ করা না হলে আগামী ২১মে’১৪ইং তারিখ সংগঠনের নিয়ন্ত্রণাধীন সকল প্রকার যানবাহন উক্ত টার্মিনাল হতে প্রত্যাহার করে পুরাতন বাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বাসগুলো সেখানেই অবস্থান করবে। তিনি অনতিবিলম্বে টার্মিনালের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে বিরাজিত সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।