ইসলাম প্রসারে বিশেষ অবদান রাখছে লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা

ইসলাম ধর্ম প্রচার প্রসারে যুগ যুগ ধরে নবী-রাসুল সাহাবা একরাম, খোলাফায়ে রাশেদীন, পীর মাশায়েক আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এ উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে পীর মাশায়েকরা যেমন অবদান  রেখেছেন তেমনি অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এ এলাকার কিছু ইসলাম প্রিয় মানুষ আজীবন কাজ করে গেছেন।

 
বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে বিগত দেড়’শ বছর আগে লাকসাম গাজীমুড়া গ্রামের মরহুম হাসান আলী মজুমদার নিজের অর্থ আর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করেন লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা।
১৯৩৫ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত এ মাদ্রাসা ইসলাম শিক্ষা এবং সুনাগরিক গঠনে নিরলস অবদান রেখেছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে বহু শিার্থী বিভিন্ন নামীদামী মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতাসহ দেশ-বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন।
বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার মাঝে প্রথম শ্রেণী থেকে কামিল শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষার জন্য মাত্র ২৬ জন এমপিও ভুক্ত ও ১২ জন নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষক থাকায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

 
এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩টি পাকা ভবন, ১টি আধাপাকা ও ১টি মাত্র ছাত্রাবাস রয়েছে। ১১ একর সম্পত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক সংকট, শ্রেনীর করে অভাব, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সংকট ও ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা হল রুম না থাকায় চরম ভোগান্তির মাঝে পাঠ গ্রহণ করতে হয়।

 
বর্তমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃক প্রনীত জনবল কাঠামো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা কাগজে কলমে রয়ে গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম হিরু গত ৫ মাস যাবত নিখোঁজ থাকায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাদা মনের মানুষ সোলেমান মজুমদার দায়িত্ব পালন করছেন।

 
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাও. আ ন ম তাজুল ইসলাম বলেন অনেক সমস্যার মাঝে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়। শিক্ষক সংকট, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন, শিক্ষক আবাসন, কম্পিউটার ল্যাব, পৃথক ছাত্র-ছাত্রীদের হলরুম সংকটের সমাধান হলে লাকসাম দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা হতে পারে এ উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।