ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হককে গাড়ির ভেতরে গুলি করে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গাড়িতে তার সঙ্গে থাকা আরো তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফেনী সদরে বিলাসী হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ তিনজন হলেন, ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন (৬০), স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ (৩২) ও গাড়িচালক মামুন (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেয়ারম্যান একরামুল হকের সঙ্গে তার গাড়িতে করে তারা ফেনী সদর থেকে ফুলগাজীতে যাচ্ছিলেন। বিলাসী হোটেলের সামনে পৌঁছানোর পরে গাড়ি লক্ষ্য করে দুই পাশ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হতে থাকে। এ সময় চেয়ারম্যান একরামুল হক গুলিবিদ্ধ হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারা তিনজন গাড়ি থেকে নামতে পারলেও গুলিবিদ্ধ একরামুল হক বের হতে পারেননি। তিনি গাড়ির মধ্যেই আগুনে পুড়ে মারা যান।

পুলিশ ও দমকল বাহিনী পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। গাড়ি থেকে একরামুল হকের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা সবাই পালিয়ে গিয়েছে।

ফুলগাজী থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
এদিকে, চেয়ারম্যান একরামুল হক নিহতের পর শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের একাডেমি এলাকায় একরাম সমর্থকরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাবু চেয়ারম্যানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিদেরও ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।