কুমিল্লায় ২ গৃহবধূসহ একদিনে ৩ খুন

কুমিল্লায় তাহসিন ইসলাম নামের ৮ মাসের এক শিশুকে গলাটিপে হত্যা করেছে পিতা। এছাড়া হারিজা বেগম নামের প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা এবং নিলুফা বেগম নামের আরও এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার বুড়িচং,  ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলায় পৃথক এই ৩ খুনের ঘটনা ঘটে। ৩ খুনের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিকালে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

 
জানা গেছে, জেলার চান্দিনা উপজেলার কৈকরি গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের পুত্র শাকিল মিয়া (৩২) বুড়িচংয়ের শাহাদৌলতপুর এলাকায় ভাড়াটে বাসায় থাকতেন। সোমবার রাতে শাকিল মিয়া তার ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান তাহসিন ইসলামকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করে। শিশুর মাতা সোনিয়া আক্তার জানান, ‘সোমবার সন্ধ্যায় তার স্বামী ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শিশুসন্তানকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এর আধা ঘন্টা পর তার স্বামী বাড়িতে ফিরে এসে বলে বাচ্চাকে ডাক্তারের চেম্বারে রেখে এসেছি। তুমিও আমার সাথে ওখানে চলো। পরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালের বেডে গিয়ে বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। তার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একপর্যায়ে ঘাতক শাকিল পালিয়ে যায়। দেড় বছর আগেও ২ মাস বয়সী তাদের প্রথম সন্তানকে একইভাবে হত্যা করলে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে এর মিমাংসা হয়েছিল।’ বুড়িচং থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান জানান, নিহত শিশুর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শিশুর মা সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকালে শিশুর পিতা শাকিলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক শাকিলকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মনগোছ গ্রামের প্রবাসী সাইদুল ইসলামের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী হারিজা বেগমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে আজ মঙ্গলবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন হারিজা বেগমকে (৩০) প্রায়ই নির্যাতন করতো। সোমবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুমিল্লা নেওয়ার পথে সে মারা যায়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তার স্বামীর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় নিহতের চাচা রেহান উদ্দিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকালে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চাচা শ্বশুর বাচ্চু মিয়া, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, পুত্র শাহাদাত হোসেন ও বিল্লাল হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এছাড়া দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জের ঢালকরপাড়া থেকে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ নিলুফা বেগম (৪০) নামের এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জের ঢালকরপাড়া মরা নদীর পাড়ে নিলুফা বেগমের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রহমত আহম্মদকে (৫২) আটক করে। দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ওই মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।