স্বস্তির বৃষ্টিতেই লাকসামে জলাবদ্ধতা

কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা জেলার অন্যতম ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দারা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ আর পুকুর, জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আলো-বাতাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অন্যদিকে, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও বাড়ি-ঘরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচল ও জনসাধারণের যাতায়াতসহ নিত্যদিনের কাজকর্মে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

 
কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর গত দু’দিন বিকেলে লাকসামে স্বস্তির বৃষ্টি নামে। আর এ সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। লাকসাম বাইপাসস্থ বেলঘর-গৈয়ারভাঙ্গা সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্নে এতিমখানা রোডে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় জলাবদ্ধতায় জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির দৃশ্য। আর ওই পানিতে দুষ্ট কিশোররা গামছা হাতে নেমে পড়ে মাছ ধরতে। সিএনজি অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মোটর সাইকেলসহ ছোট-খাট যানবাহনগুলো এ স্থান দিয়ে চলাচলের সময় অদৃশ্য গর্তে আটকে যেতে দেখা যায়। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে কোনো কোনোটি নষ্ট হতেও দেখা যায়। তাছাড়া ট্রাক-ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও ভোগান্তিতে পড়ে। ওই রুটে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালক আবুল কাশেম জানান, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই এ স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভা থেকে পানি সরানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ স্থান দিয়ে চলাচলের সময় সিএনজির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। ইঞ্জিন সারাতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা লেগেছে’। স্থানীয় চা দোকানদার মমতাজ মিয়া জানান, ‘জলাবদ্ধতার কারণে দু’দিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। বৃষ্টি এলে দোকানে পানি ওঠে। কাষ্টমার কমে যাওয়ায় তৈরীকৃত খাবার নষ্ট হয়ে আর্থিক লোকসান গুণতে হচ্ছে’। ওই রাস্তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির প্রবাসী আবুল খায়ের জানান, ‘দু’তিন সপ্তাহ পূর্বে পৌরসভায় দরখাস্ত দিলেও জলাবদ্ধতায় পানি নিরসনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তার ময়লাযুক্ত পানি বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ে। এতে বাড়ির নারি-শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে’। পোল্ট্রি খামারি মোবারক হোসেন জানান, ‘খামারে পানি ঢুকে পড়ায় ১২/১৪টি মোরগ মরে গেছে। এ জন্য দু’দিন মুরগি বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতার এ দৃশ্য শুধু এতিমখানা রোডের নয়; পুরো পৌরসভা জুড়েই ভাঙ্গা-চুরা রাস্তা-ঘাটে পৌর নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আর সামান্য বৃষ্টি হলেওই এ ভোগান্তির মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। একটু বৃষ্টিতেই পৌরসভা সংলগ্ন উত্তর বাজার, মেইন রোড, ব্যাংকরোড, দৈনিক বাজার, দণি লাকসাম, রাজঘাট, সাহাপাড়া, দরগাহ রোড, আউশপাড়া রোড, জংশন বাজার, কোমারডোগাসহ বিভিন্ন ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় কাদাপানি একাকার হয়ে জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, পাড়া-মহল−ার রাস্তায় জনসাধারণের ভোগান্তির দৃশ্য বর্ণনাতীত। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার এসব রাস্তা সংস্কার না করায় জনসাধারণের ভোগান্তির মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই।

 
রাস্তার পাশে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণকালে পানি সরার ব্যবস্থা না রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি স্বীকার করে লাকসাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাহার উদ্দিন বাহার জানান, ‘জনসাধারণকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার। তা না হলেও পৌরসভার একার পে জলাবদ্ধতা নিরসন অসম্ভব। তবে সাধ্যমতো আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 

এ বিষয়ে মেয়র আলহাজ মফিজুর রহমান জানান, ‘পৌরসভার জনবল ও অর্থ সংকট রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তা-ঘাট চলাচলের উপযোগী রাখতে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।