রামুতে অপহৃত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩ জন উদ্ধার, হদিস মিলেনি স্কুল ছাত্রের

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে অপহরণের ২৪  ঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারিরা। বিজিবি-পুলিশের অভিযানের মুখে বাধ্য হয়ে অপহরণকারি চক্র তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এরআগে গত ২৬ মে সোমবার রাত নয়টায় ঈদগড়-বাইশারী সড়কের একটি বাস থামিয়ে সশস্ত্র অপহরণকারি চক্র ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩জনকে বেঁধে গাড়ি থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যান। ২৭ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে রামু থানা পুলিশ এবং নাই্যংছড়ি ৩১ বিজিবি জওয়ানরা অপহরণস্থলের আশ-পাশের পাহাড়ি অরণ্যে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

 
অপহরণকারি চক্রের কবল থেকে মুক্ত হওয়া এ তিন ব্যক্তি হলেন, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ফনিন্দ্র লাল দে’র ছেলে নাই্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি বাজারস্থ কৃষি ব্যাংক বাইশারী শাখার ক্যাশিয়ার জিতেন্দ্র কিশোর দেব, বাইশারী ইউনিয়নের ঘোনারপাড়া এলাকার আবদুল গনির ছেলে ুদ্র ব্যবসায়ি মাহবুবুর রহমান সেলিম এবং বাইশারী হলুদিয়া এলাকার নুরুল আলম (৩৫)।

 
গত মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে অপহরণকারীরা তাদের জঙ্গলে ছেড়ে দেয়। পরে তারা বাইশারী বাজারে গেলে লোকজন তাদের দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

 
ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ আহমদ জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঈদগাঁও ষ্টেশন থেকে যাত্রীবাহী হিল লাইন (কক্স-জ-১১-০০৬৮) মিনিবাস বাইশারী বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত ৯ টার দিকে ঈদগড়- বাইশারী সড়কে রামু উপজেলার আওতাধীন ব্যাংকডেবা নামক স্থানে পৌঁছলে একদল দূর্বৃত্ত গাড়িতে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কিশোর দেব ও ব্যবসায়ি মাহবুবুর রহমান সেলিম সহ তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
হিল লাইন গাড়িটির চালক মো. ইউনুস জানিয়েছেন, গাড়িতে মোট ১২ জন যাত্রী ছিলো। এরমধ্যে ৯ জন বিভিন্ন স্থানে নেমে যান। অবশিষ্ট ৩ জন যাত্রী নিয়ে বাইশারী আসার পথে ব্যাংকডেবা পৌঁছলে সশস্ত্র ডাকাতদল ওই তিন যাত্রীকে ঁেবধে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যায়।

 
নাই্যংছড়ি ৩১ বিজিবি’র সুবেদার খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, অপহৃতদের উদ্ধারে বিজিবির একটি দল গহীন অরণ্যে অভিযান চালায়। এ অভিযানে বিজিবির ২০ জন জওয়ান অংশ নেয়।

 
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ সাইকুল আহমেদ ভূঁইয়া এবং ওসি তদন্ত বখতেয়ার উদ্দিন চৌধুরী গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় অপহৃত হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩জন মুক্ত করার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা আরো জানিয়েছেন, অপহরণকারি চক্র পুলিশ এবং বিজিবির অভিযানে কোনঠাসা হয়ে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। মুক্ত হওয়া তিনজনকে রাতে রামু থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাছাড়া অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 
এদিকে এ ঘটনার আগেরদিন রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের রেনুর ছড়া ব্রীজ এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করা হয়। এখনো ওই ছাত্রের হদিস মিলেনি। অপহৃত মোর্শেদ আলম ঈদগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। সে ঈদগড় পানিস্যাঘোনা এলাকার মৃত ফকির আহমদের ছেলে। পরে অপহরণকারী ছাত্রের অভিভাবকদের ফোন করে গতকাল ২৮ মে বুধবার বেলা ১২ টার মধ্যে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। অন্যতায় তাকে হত্যা করার হুমকী দেয়।

 
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রামু উপজেলার অবৈধ অস্ত্রের ডিপোখ্যাত ঈদগড় ইউনিয়নে সরকারদলীয় নেতা, ব্যবসায়িসহ ৮ ব্যক্তি অপহরণ হয়েছিলো। পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান তাঁরা। একের পর এক ডাকাতি, হত্যা এবং অপহরণের ঘটনায় পুরো রামু উপজেলায় জনমনে চরম আতংক বিরাজ করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।