ছাত্রলীগের গুলিতে এমপি হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা নিহতের ঘটনায় মামলা

কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা আহসান হাবিব সমু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনাম আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই হাবিবুন সায়ের বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ রাসেল। অন্য আসামিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারা রাসেল গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুজ্জামান জানান, রাতে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতার অভিযান চলছে।

জানা যায়, কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে আধিপত্য বিস্তার ও উচ্চমাধ্যমিক শাখায় ভর্তি কেন্দ্র করে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রিন্টু ও ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ রাসেল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিন্টু গ্রুপের অনুসারী, মুন্সেফবাড়ি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সজীব চক্রবর্তী গিট্টুর ছোট ভাই ছুট্টু চক্রবর্তীকে কলেজের সামনে পেয়ে রাসেল গ্রুপের লোকজন মারধর করেন। পরে ছুট্টুর নেতৃত্বে মুন্সেফবাড়ি থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে গিয়ে রাসেল গ্রুপের ওপর হামলা চালান। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

রাসেল গ্রুপ কলেজের নিকটবর্তী মুন্সেফবাড়ি এলাকায় গিট্টু চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা আহসান হাবীব সমু হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা সমুকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সমু স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিনের চাচাত ভাই, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মৃত ওমর ফারুকের ছেলে। সমুর একমাত্র সন্তান আহসান ইয়ামিন (৯) নগরীর অ্যাথনিকা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। 

এদিকে ওই সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা গিট্টু চক্রবর্তীর চাচাত ভাই পান্না চক্রবর্তীর ছেলে প্রীতম চক্রবর্তী পিংকু (২৫) ও অন্য চাচাত ভাই চুন্নী চক্রবর্তীর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী রণি (২১) গুলিবিদ্ধ হন। পিংকুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সমুর স্ত্রী আরিফা আক্তার সোমা তার স্বামীর খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।