লাকসামে বিএনপি’র দুই নেতা গুম, স্বজনদের চোখের পানি আর ছবি দেখে কেটে গেল ৬মাস

লাকসাম উপজেলার বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু এবং পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও লাকসাম কাপড় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের পরিবারে স্বজনদের চোখের পানি আর ছবি দেখে কেটে গেল ৬ মাস । স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে গুলশানের কার্যালয়ে সাাৎ, র‌্যাব-১১ কে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের, মানবাধিকা কমিশনে লিখিত অভিযোগ সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।

 
গত বছরের ২৭ নভেম্বর র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর থেকে লাকসামের বিএনপির ওই দুই নেতা নিখোঁজ রয়েছেন।

 
গত ৭ মে রাতে হুমায়ুনের স্ত্রী শাহনাজ আকতার লাকসাম পৌর এলাকার ফতেপুরের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ সাবেক অধিনায়ক (সিও) লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ এর নেতৃত্বে তাঁর স্বামী মো. হুমায়ুন কবির পারভেজ ও চাচা শ্বশুর মো. সাইফুল ইসলাম হিরুকে গুম অভিযোগ করেন এবং গত ১৮ মে কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাবরিনা নার্গিসের আদালতে মো. হুমায়ুন কবির পারভেজের বৃদ্ধ বাবা মো. রঙ্গু মিয়া বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য চার বিবাদি হলেন, র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন কুমিল্লা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা কোম্পানী-২ এর মেজর শাহেদ হাসান রাজী, উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. শাহজাহান আলী, উপ-পরিদর্শক কাজী সুলতান আহমেদ এবং অসিত কুমার রায়।

 
নিখোঁজ ওই দুই নেতার পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে দশটায় লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ এবং একই কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ’লাকসাম ফেয়ার হেল্থ’ হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা যাচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লা সদর দণি উপজেলার হরিশ্চর এলাকায় পৌঁছলে ওই সময় সাদা পোশাকদারী র‌্যাব পরিচয়ে একটি দল অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যারিকেড দিয়ে থামায় এবং তাঁদের আটক করে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত প্রায় সাড়ে বারটার দিকে র‌্যাব-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-২-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহজাহান আলী জসিম উদ্দিনকে লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু অপর ওই দুই নেতাকে আটকের বিষয়টি র‌্যাব স্বীকার করছেন না। এ ছাড়া, একই রাতে র‌্যাবের একটি দল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরুর লাকসামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও নয়জনকে আটক করে। তাঁদেরকে ওই রাতেই লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। র‌্যাব-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-২-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহজাহান আলী।

 
র‌্যাবের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া জসিম উদ্দিন ওই রাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন, র‌্যাব তাঁদের আটকের পর তিন জনকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে হিরু ভাই ও হুমায়ুন ভাইকে একটি গাড়িতে তুলে নেয় এবং আমাকে অন্য একটি গাড়িতে করে এনে রাত প্রায় সাড়ে বারটার দিকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করেন।

 
নিখোঁজ মো. হুমায়ুনের ছোট ভাই গোলাম ফারুক জানান, ঘটনার তিন দিন পরও তাঁদের কোনো খোঁজ না পেয়ে র‌্যাব’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু র‌্যাব ওই দুইজনকে (হিরু-হুমায়ুন) আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। পরে এই ব্যাপারে ১ ডিসেম্বর তিনি লাকসাম থানায় একটি সাধারণ ডাইরী (জিডি নং-২৩ ) করেন।

 
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই সময় আমি এই থানায় ছিলাম না। এখানে যোগদানের পর জেনেছি, বিএনপির ওই দুই নেতার নিখেঁজের বিষয়ে ১ ডিসেম্বর থানায় একটি জিডি হয়েছে। এ ছাড়া, নিখোঁজের ব্যাপারে আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য জানা নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।