একরামের মেয়ে ফুল জানেনা তার বাবা নেই, আমার আব্বু আসবে’

আমার আব্বু আসবে।আব্বু আমার জন্য টিয়া রংয়ের গাড়ী নিয়ে আসবে।আব্বু বাড়ীতে এলে আমরা বেড়াতে যাব।কথাগুলো বলছিল সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের মেয়ে জারিন সুবাহ হক ফুল।একরাম ফুলগাজীকে ভালোবাসতেন।তাই মেয়েকে ডাকতেন ফুল নামে।দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে ছিল একরামের সুখের সংসার।
গত সোমবার বিকালে নিহত একরামের শহরের মাষ্টার পাড়াস্থ বাসায় ঢুকতেই চোখে পড়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা।খুন হওয়ার একদিন আগেই বাসার সামনে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন একরাম।
বাসার গেটে আর্মস পুলিশের কড়া নিরাপত্তা। তার ছোট ভাই এহসানের পরিচয় দিতেই গেট খুলে দেওয়া হলো।
একরামের পরিবারে একদিকে আতংক,অন্যদিকে শোক।এহসান মৃত ভাইয়ের শোকে পাথর।কোনো কথা বলতে পারছিলেন না।৪ তলা বাড়ির ২য় তলায় থাকেন একরামের পরিবার।নিরাপত্তার অভাবে একরামের বড় ছেলে এখন চট্রগামে থাকছে।দুই মেয়েকে নিয়ে নিহত একরামের স্ত্রীর শোকাবহ দিন কাটছে।ছোট মেয়ে এখনও কথা বলতে পারেনা। হৃদয় নিংরানো বড় মেয়ে ফুলের কথা গুলো উপস্থিত আত্বীয় স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল তুলেছিল।ফুল বলছিল  আমার আব্বু আসবে। আমার স্কুল বন্ধতো।আব্বু আসলে আমরা বেড়াতে যাব।আমার জন্য গাড়ি আনবে আরও কত কি…।কিন্তু একরামের মেয়ে ফুল জানেনা তার বাবা তাদের মাঝে আর ফিরবে না কোনদিন।
গত ২০ শে মে  শহরের একাডেমী রোডে দলীয় কোন্দলে নৃশংস ভাবে খুন হন একরামুল হক একরাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।