মেয়াদোর্ত্তীণ ঔষধের ছড়াছড়ি কুমিল্লার শতাধিক ফার্মেসীতে

কুমিল্লা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলার আনাচে কানাচে অনুমোদনহীন ফার্মেসী, ব্যবসার লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স ও বিক্রির অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট ছাড়াই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের ছড়াছড়ি। মেডিসিন প্রশাসন বরাবরই নিবরতা ভূমিতা পালন করছেন করে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালালেও ফার্মেসীগুলোতে কোন অভিযান না চলাকারণে মাস কিংবা বৎসর ব্যাপী মেয়াদোত্তীণ ঔষধ বিক্রি করছে কতিপয় অসাধু ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা। ফলে রোগীদের জীবন নাশের আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষরা।

বুধবার রাত ১০টায়  কুমিল্লা নগরীর মিডল্যান্ড হসপিটালে এক শিশুকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল হসপিটালের অনভিজ্ঞ স্টাফ। এ নিয়ে নগরজুড়ে তুলকাম সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়- দেবিদ্বারের দৌলতপুর এলাকা থেকে পুড়ে যাওয়া শিশু লিজা আক্তারকে তার স্বজনরা গত সোমবার মিডল্যাণ্ড হাসপাতালে ভর্তি করায়। বুধবার রাতে নিয়মিত চিকিৎসা সেবায় অংশ হিসেবে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ওরিচিফ আনতে বলে হাসপাতালের নার্স শাহানা। সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ইনজেকশনটি রোগীর শরীরে পুশ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেকে জানানোর পাশাপাশি মিডল্যাণ্ড হাসপাতালের অভ্যন্তরে ওষুধের দোকানে ঘেরাও করে।

রোগীর মা লিপি আক্তার জানান, নার্স শাহানা আমাদেরকে ওরিচিফ ইনজেকশন আনতে বলে। বাইরের ওষুধের দোকান থেকে ইনজেকশন আনলে নার্স ঐ ইনজেকশন ফিরিয়ে আনতে বলে। পরে তার নির্দেশে হসপিটালের অভ্যন্তরে ওষুধের দোকান থেকে ইনজেকশন এনে দিলে নার্স তা মেয়াদের তারিখ পরীক্ষা করা ছাড়াই রোগীর শরীরে পুশ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে রোগীর অবস্থা অবণতি হতে থাকে।

এ সময় অন্য নার্সরা মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশনটি লুকিয়ে ফেলে। আমরা ইনজেকশনটির প্যাকেট পরীক্ষা করে দেখি এটি মেয়াদউত্তীর্ণ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মির্জা তাইয়েবুল ইসলামের চিকিৎসায় রোগী কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ওষুধের দোকানী শংকর চন্দ্র নাহার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার ওষুধের ব্যবসার লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স নেই। কি ভাবে ওষুধ ব্যবসা করেন বললে তিনি কোন উত্তর দেননি। এদিকে ঘটনা শুরু থেকে রোগীর আত্মীয় স্বজন হাসপাতালে ভিড় করতে থাকে। এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে ফার্মেসী ব্যবসায় লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স এবং অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ছাড়াই ব্যবসা করে আসছিল ওষুধ দোকানদার শংকর চন্দ্র নাহা। নাহার মতো অহরহ ঔষধ দোকান রয়েছে। যার কোন ব্যবসার লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স ও বিক্রির অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেট ছাড়াই চলছে কুমিল্লায় প্রায় কয়েক শতাধিক ফার্মেসী দোকান। অভিযান চালালে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।