ফেনীতে পোষ্ট মাষ্টারকে নির্মমভাবে হত্যা

ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধলিয়ায় এক পোষ্ট মাষ্টারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এলাকায় নিরীহ লোক হিসেবে পরিচিত হলেও তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ধারণা।
সরেজমিন পরিদর্শনে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, মধ্যম দৌলতপুরের মৃত আবদুল মালেকের পুত্র মাহবুবুল হক (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকায় বসবাস করে আসছে। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার বিকালে তার স্ত্রী বিবি ছকিনা (৪০) একমাত্র কন্যা সানজিদাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাদের ২ ছেলে মিনারুল হক বাপ্পী এবং আজহারুল হক আহাদ ওমান ও মালয়েশিয়া প্রবাসী।

ফলে স্ত্রী কন্যা বেড়াতে যাওয়ায় সেদিন রাতে মাহবুবুল হক বাড়িতে একা ছিল। গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে মাহবুবকে বের করে নিয়ে যায় বলে তার স্ত্রী কন্যা ও এলাকাবাসীর ধারনা। এক পর্যায়ে গভীর রাতে বাড়ীর পাশ্ববর্তী দোকানের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।

এ সময় স্থানীয়দের ডাক-চিৎকারে মাহবুবের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী ছুটে আসে। এক পর্যায়ে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
মাহবুবের কন্যা সানজিদা উক্ত প্রতিবেদককে জানায়, পাশ্ববর্তী এক বড় আপনার মোবাইল পাওয়ার পর গভীর রাতে আত্মীয় বাড়ী থেকে ছুটে আসে তারা। এ সময় তার বাবাকে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে লালপোলে সে ও তার মা এম্বুল্যান্সে উঠে।

চোখে মারাত্মক জখম হওয়ায় মাহবুবকে প্রথমে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ এবং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মোর্শেদ নিহতের বাড়ীতে যান।

এক পর্যায়ে নিহতের স্ত্রী বিবি ছকিনা ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জবানবন্দি নেয়া হয়। নিহতের স্ত্রী জানান, পাশ্ববর্তী আবদুল খালেকের সন্ত্রাসী পুত্র এবং আলোচিত স্বপন হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী জাহাঙ্গীর ও তার চাচাতো ভাই দেলোয়ারের পুত্র লিটন এর সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উল্লেখিত দুই সন্ত্রাসী পোষ্ট মাষ্টার মাহবুবের চোখ তুলে ফেলার হুমকি দেয়।

মাহবুবের স্ত্রী জানান, মুলত জাহাঙ্গীরের সাথে মঙ্গলবারে তাদের কথা কাটাকাটি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া তার স্বামীর অন্য কোন শত্রু নেই বলে জানান তিনি। সানজিদাও অভিন্ন কথা জানান। তার বাবা নেই, এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে ধলিয়া হক বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত মাহবুবের একমাত্র কন্যা সানজিদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গভীর রাতে এলাকায় একটি মাইক্রো এসেছিল। বিষয়টি স্থানীয় দোকানদার টের পেলেও বের হওয়ার সাহস পায়নি বলে জানায়। এ ছাড়া তখন বোমার শব্দ শোনা গেছে বলেও এলাকাবাসী জানায়। নিহত মাহবুবের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার ডানচোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ছুরি দিয়ে চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়েছে।

এছাড়া গালে, বুকে, গলায় বোমার স্পিন্টারের আঘাত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাহবুবের লাশ গ্রামের বাড়ীতে আনা হয়নি। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছেন।
এদিকে মাহবুবের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী কন্যা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের ধারণা যে কোন মুহুর্তে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করতে পারে, এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।