লাকসামে প্রেমিককে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

কুমিল্লার লাকসামে প্রেমের স্বীকৃতির ও বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছে প্রেমিকা। প্রেমিক বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনসহ ওই প্রেমিকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা  আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন ওই প্রেমিকার পিতা। প্রেমিকের প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনদের জড়িয়ে গত ১লা জুন এ মামলা দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, লাকসামের আমদুয়ার গ্রামের কাজী হাবিবুর রহমান শাহিনের সাথে বেশ কিছুদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো পার্শ্ববর্তী আদ্রা গ্রামের মর্জিনা আক্তারের (১৭)। গত ১৭ মে হাঁপানিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পরীার রেজাল্ট নিয়ে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে সে আমদুয়ার যায়। বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা হয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী টুয়া নামক স্থানে মাহফুজুল ইসলাম ফরহাদ ও বাবুলসহ ৪/৫ জন স্থানীয় লোকজন তাকে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রেমিক শাহিনের বাড়িতে এসেছে বলে জানায়।

 

পরে তাকে আমদুয়ার নিয়ে গেলে প্রেমিক শাহিন পালিয়ে যায়। রাতে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে খবর পেয়ে মেয়েটির পিতা আবদুল মান্নান এসে তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে শাহিনের সাথে তার বিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। গ্রামের লোকজন শাহিনকে খোঁজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে ৩ জন গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদের মধ্যস্থতায় ছেলে ও মেয়ে পরে আত্মীয় হাজী তাজুল ইসলামের জিম্মায় তারই শ্যালক একই বাড়ির কাজী খোরশেদ আলমের ঘরে মর্জিনাকে রাখা হয়।

 

স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে ১৮, ২০ ও ২৩ মে শালিস হলেও প্রেমিক শাহিন পলাতক থাকায় ঘটনার সুরাহা হয়নি। প্রেমের স্বীকৃতির জন্য শাহিনের উঠোনে অনশনকালে গত ২৬ মে স্থানীয় সাংবাদিকরা ছুটে গেলে প্রেমিকা মর্জিনা স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বেলায়েতের উপস্থিতিতে জানান, ‘আমি প্রেমের টানে স্বইচ্ছায় এখানে এসেছি, শাহিনকে ছাড়া আমি বাঁচবো না, তাকে বিয়ে ছাড়া আমি কোথাও যাবো না’।

 

 

পরে ৩১ মে লাকসাম থানা পুলিশ তাজুল ইসলামের জিম্মা থেকে মর্জিনাকে উদ্ধার করে কোর্টের মাধ্যমে তার পিতার জিম্মায় দেয়। এলাকাবাসী জানায়, প্রেমের টানে মর্জিনা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও প্রেমিক শাহিনের আত্মীয় ও প্রতিবেশী কাজী খোরশেদ আলম, কাজী মাওলানা গোলামুর রহমান, আবদুল কাইয়ুমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, হাঁপানিয়া মাদরাসার শিক নঈম, মমতাজুল করিম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন শিক জানান, ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে বার বার সতর্কের পরও মর্জিনার উশৃংখল চলাফেরার কারণে তাকে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো।

 

এ বিষয়ে রোববার লাকসাম থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, মামলাটি তদন্তাধিন আছে। বর্তমানে ভিকটিম তার পিতার জিম্মায় রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।