সোনাগাজীতে ২৪০ ড্রাম বিটুমিন সহ ঠিকাদার গ্রেফতার

সোনাগাজী পৌর এলাকার বাখরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে অবৈধভাবে মজুদকৃত ২৪০ ড্রাম বিটুমিন সহ সোনাগাজীর ১ম শ্রেণির ঠিকাদার আ’লীগ নেতা মোস্তফাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় গত সোমবার চট্টগ্রামে মাঝির ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী নিউ মমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি থেকে ২টি বড় লোরি যোগে ২৪০ ড্রাম বিটুমিন ঢাকার মুন্সিগঞ্জে যাওয়ার সময় ফেনীর কসকা নামক স্থানে ১৫/২০ জনের ১টি ছিনতাইকারী দল ১টি ট্রাকের গতি রোধ করে  চালককে জিম্মি করে বিটুমিন সহ গাড়ীটিকে নিয়ে যায়।

 

পরে ছিনতাইকারী দল বিটুমিন গুলো গাড়ী থেকে নামিয়ে গাড়ীটিকে বিধায় করে দেয়। গাড়ীটির চালক আবুল খায়ের বিষয়টি মমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক পক্ষকে জানায়। এ ব্যাপারে নিউ মমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির পক্ষ থেকে তাদের চোরাইকৃত মাল গুলো উদ্ধারের লক্ষ্যে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। কিন্তুচালক মালিক খবর দিয়ে অজ্ঞাত কারনে গাড়ীটি নিয়ে নোয়াখালী বেগমগঞ্জে চলে যায়। ওই খানে গাড়ীর চালক একটি এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীকে  ধাক্কা দেয়ার অভিযোগে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ চালক সহ গাড়িটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ থানায় গিয়ে চালক ও গাড়ীর হেলপার কে নিয়ে মালিক পক্ষের সহযোগিতায় ফেনীর নতুন বাড়ার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেঙ্গল ফারুক এন্টাপ্রাইজের গোডাউন ও বাড়ীতে অভিযান চালায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার অতিরিক্ত সিনিয়র পুলিশ সুপার সার্কেল শামছুল আলম সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনাগাজীর ১ম শ্রেণির ঠিকাদার ও আ’লীগ নেতা মো: মোস্তফা প্রকাশ সুটকি মোস্তফার নাছির এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৪০ ড্রাম বিটুমিন উদ্ধার করেন।

 

এ সময় পুলিশ নাছির এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোস্তফা ও তার ছেলে নাছির উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। জানা যায় উদ্ধারকৃত ২৪০ ড্রাম বিটুমিনের মধ্যে ১২০ ড্রাম বিটুমিন মমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির। বাকী ১২০ ড্রাম বিটুমিন সীতাকুন্ড থানা এলাকার এক ব্যবসায়ীর চুরি হয়ে যাওয়া মাল বলে জানা যায়। জনৈক ওই ব্যবসায়ী ১২০ ড্রাম বিটুমিন ছিনতায়ের অভিযোগ এনে সীতাকুন্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ফেনীর সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আলম সরকার সোনাগাজীতে উদ্ধার হওয়া ২৪০ ড্রাম বিটুমিন এর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এ ব্যাপারে নিউ মমিন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির পক্ষ থেকে অবৈধভাবে মজুদ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে সোনাগাজীর ঠিকাদার সুটকি মোস্তফা ও গাড়ীর চালক আবুল খায়ের এবং হেলফার নুরুল ইসলাম সহ অজ্ঞাত নামা বেশ কয়েকজনকে আসামী করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। সোনাগাজী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আমিরুল ইসলাম ছিনতাইকৃত ২৪০ ড্রাম বিটুমিন উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান এ ব্যাপারে সীতাকুন্ড ও সোনাগাজী থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিটুমিনগুলো বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

সূত্রে আরো জানায় ঠিকাদার মোস্তফা পেশায় একজন সুটকি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সুটকি ব্যবসা ছেড়ে আন্ত জেলা ছিনতাইকারী ও কালোবাজারীদের সাথে হাত মিলিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা শুরু করেন। সোনাগাজী উপজেলায় বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ রাস্তা ঘাট নির্মাণে সোনাগাজীর অন্যান্য ঠিকাদারা তার নিকট নির্মাণ কাজের দায়িত্ব নিয়ে থাকতেন। মোস্তফা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে নি¤œমানের ও বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ক্রয়কৃত মালগুলো দিয়ে নির্মাণ কাজ গুলো শেষ করতেন।

 

এছাড়াও তাকে সোনাগাজী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব কাজ করার সময় অর্থ দিয়ে সাহায্য করত বলেও জানা গেছে। মোস্তফা গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও বাজারের ব্যবসায়ী থানায় গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মেনেজ করে তাকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। জানা যায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া নির্মাণ সামগ্রী গুলো মোস্তফা ক্রয় করে তার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করত। এছাড়াও মোস্তফার বিরুদ্ধে ঠিকাদারী ব্যবসায় অনিয়ম সহ নানা দুর্নীতি, কালোবাজারী ও চোরা কারবারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

 

সুটকি ব্যবসায়ী থেকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার গ্রেফতারের খবর শুনে অনেক ঠিকাদার স্বস্থি প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।