বঙ্গোপসাগরে জাহাজ ক্যাপ্টেনের নৃশংস গুলিতে ৬ মালয়েশিয়াগামী যাত্রী নিহত

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সেন্টমার্টিনের অদুরে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগরে যাত্রী বোঝাই জাহাজে ক্যাপ্টেন ও ৪ ক্রু মিলে নৃশংস গুলি চালিয়েছে। এতে অন্তত ছয় বাংলাদেশি মালয়েশিয়াগামী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো অন্তত ৪০ জন।

 

ঘটনায় নিহতরা হলেন, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের রশিদ আহমদের পুত্র সেলিম, একই এলাকার মোকামের ছেলে রুবেল, বগুড়ার কাহালু উপজেলার মাটিখালি গ্রামের সাইদুল, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পাইতুশা গ্রামের মনির। নিহতদের মধ্যে আরোও একজনের নাম জানা যায়নি।

 

নিহত অপরজনকে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় একই সাথে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ৯টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ১০ কিলোমিটার দণি-পূর্ব এলাকার মিয়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নিহত ছয়জনসহ ৩২২ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে পানি পথে মালয়েশিয়া রওয়ানা হয় জাহাজটি। জাহাজটি সেন্টমার্টিন এলাকায় পৌঁছে আরো কিছু যাত্রী বোঝাই করতে সময়পেন করছিল। অপরাপর অন্যান্য যাত্রীরা জাহাজে উঠতে দেরি হওয়ায় ট্রলারে অবস্থানরত যাত্রীরা অধৈর্য্য হয়ে মাঝিমাল্লাদের সাথে দ্বন্ধে লিপ্ত হয়।

 

এক পর্যায়ে উভয় প সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উক্ত জাহাজের থাই ক্যাপ্টেন ও ৪ ক্রু মিলে যাত্রীদের উপর নৃশংসভাবে গুলি চালায়। গুলি চালিয়ে উক্ত জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ আরোও ২জন সাগরে লাফ দিয়ে অন্য জাহাজে চড়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া ক্রুদের মধ্যে একজন মায়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ওই জাহাজের আরোও ২জন ক্রু কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছে। এরাও থাইল্যান্ডের নাগরিক বলে জানা যায়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা নুরুল আমিন ও তাঁর স্টাফ রহমান জানান, ঘটনাটি ঘটেছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ১০/১৫ কিলোমিটার দণি-পূর্ব এলাকার সমুদ্র জলসীমায়। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে সময়মত রওনা দিয়েছেন। এটি মিয়ানমারের সাথে কোন ঘটনা নয়। নৃশংস জাহাজ ক্যাপ্টেন যাত্রীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে। এঘটনায় সেন্টমার্টিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন অবনতি ঘটেনি। সবাই শান্ত রয়েছেন।
টেকনাফ কোষ্টগার্ডের ষ্টেশন কমান্ডার লে. হারুন-অর-রশিদ জানান, ঘটনায় এপর্যন্ত ৫জন নিহতের খবর নিশ্চিত হয়েছি। আহত রয়েছেন ২০জনেরও অধিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযানে চালিয়ে ৩২২ জন যাত্রীকে প্রায় অত অবস্থায় উদ্ধার করতে সম হয়েছি। এটি মিয়ানমার বা বিজিপির সাথে কোন ঘটনা নয়। জাহাজ ক্যাপ্টেন ও ক্রু মিলে যাত্রীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।