সমালোচনা করেন, কিন্তু তাতে যেন আমাদের কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, দেশের বদনাম না হয়

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ইফতার অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “সমালোচনা করেন। কিন্তু তাতে যেন আমাদের কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, বাংলাদেশের যেন বিদেশে বদনাম না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ রাখবেন।”

টেলিভিশনের টক শোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,  “টেলিভিশনের টকশোতে কত ঝাঁঝ তা আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন না, আমরা বুঝতে পারি। কারণ আমাদের গায়ে এসে লাগে। বাঘা তেঁতুলের মতো টক।” তিনি আরো বলেন, “সেই টক শো করার সুযোগ আমরা দিচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি না। মানুষ ইচ্ছামতো কথা বলছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না। গণতন্ত্র ছাড়া এই স্বাধীনতা কেউ কখনো ভোগ করতে পারে না।

সংবাদপত্রকে ‘সমাজের দর্পণ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ছাড়া কোনো সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।” সাংবাদিকদের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ  তুলে ধরেন তিনি।

বাজেটের সিংহভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “কারো অনুদান বা সাহায্য নয়, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট বাস্তবায়ন করে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণের। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের জন্যই  ২০০৭ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (চারদলীয় জোট সরকার) মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ফলে  ইমার্জেন্সি আসে। তার ভুক্তভোগী আমরা সবাই। দমবন্ধ করা পরিবেশ দেশে ছিল।”

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ আর নেই। এখন সবাই স্বস্তিতে বসবাস করতে পারছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।”

সমবায় সমিতির মাধ্যমে সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু ঢাকার সাংবাদিকরা সব পাবে, আর ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা কিছুই পাবে না- তা যেন না হয়। সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন।”

বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।