জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণ লক্ষ্মীপুরে গ্যাস চালিত অটো চালাতে চায় চালকরা

গ্যাস চালিত অটো চালকরা লক্ষ্মীপুর শহরে তাদের অটো চালাতে চায়। এজন্য তারা জেলা প্রশাসকের মানবিক দৃষ্টি কামনা করেছেন। ২৩ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক দৈনতার মুখে পতিত হচ্ছে তারা। একদিকে ঋণের বোঝা অন্যদিকে বেকারত্ব এ দুয়ে মিলিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবন আজ কষ্টকর অবস্থায় চলেছে।

 

অটো চালকরা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রশাসনের নির্দেশে লক্ষ্মীপুর শহরে বন্ধ রয়েছে সিএনজি গ্যাস চালিত অটো রিকসা। গ্যাস পাম্প থেকেও তাদেরকে কোনো গ্যাস সরবরাহ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো লাইসেন্স বা অনুমোদন দেয়া যাবেনা বলে সাফ জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ কারণে শহরে চলাচলরত প্রায় ২শ’ অটো চালক-মালিক আজ অর্থকষ্টের শিকার। কর্মহীন হয়েও তাদেরকে গাড়ি ক্রয়ের ঋণের টাকার জন্য প্রতি মুহুর্ত টেনশনে কাটাতে হচ্ছে। কারো ব্যাংক, কারো এনজিও আবার কেউবা অটো শো-রুমের কিস্তি চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

 

আলাপ করে জানা যায়, অটো মালিক-চালক মো. শাহ আলমের অটো কেনার ঋণের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা, জহিরের কিস্তি সাপ্তাহিক ৩৩শ’ টাকা, মো. সুমনের সাপ্তাহিক ৪ হাজার ৫শ’, মো. নবীর সাপ্তাহিক ২৫শ’, মো. বাহারের মাসিক ১০ হাজার, মো. বাবুলের সপ্তাহে ১৮শ’, মো. লিটনের সাপ্তাহিক ৩৭শ’, তছলিমের মাসিক ১৫ হাজার ও সুমনের সাপ্তাহিক কিস্তি ৩ হাজার টাকা।

 

লক্ষ্মীপুরের এ্যাডভোকেট মো. সোলেমান জানান, তিনি ৪টি গ্যাস চালিত অটো রিকসার মালিক। ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা করে প্রতিটি অটো কেনেন তিনি। দৈনিক ভিত্তিতে ৪শ’ টাকা করে ৪ জন ড্রাইভারকে ভাড়ায় দিয়ে এগুলো পরিচালনা করেন তিনি। কিন্তু এগুলো এখন বন্ধ থাকায় তিনি হতাশাগ্রস্ত। এজন্য তিনি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেলা প্রশাসকে বিবেচনার আঁকুতি জানান।

 

চালকদের মতে, জেলা প্রশাসক সদয় না হলে তাদেরকে সহায়-সম্বল হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে। ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পারলে হয়তো এলাকা ছেড়েও তাদেরকে পালিয়ে যেতে হবে। পরিবারগুলোকে অনাহার-অর্ধাহারে কাটাতে হবে।

 

অটো রিকসা আমদানীকারক ও ইসলাম মটর্স’র ম্যানেজার আরিফ হোসেন জানান, সিএনজি গ্যাস চালিত অটো রিকসা আমদানীর জন্য আমাদের সরকারি সকল কাগজপত্র রয়েছে। বৈধভাবেই আমরা আমদানী করে এগুলো বিক্রয় করছি। দেশের অন্যান্য স্থানে গ্যাস চালিত অটো চলাচলে অনুমতি প্রদান করা হলেও লক্ষ্মীপুরে নাম্বার পাচ্ছেনা। এ কারণে চালক ও মালিকরা চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই ভাবে তাদের ব্যবসায়ও মন্দা বিরাজ করছে।

 

বিআরটিএ’র লক্ষ্মীপুরের উপ-পরিচালক আ. রশিদ বলে, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় গ্যাস চালিত অটো রিকসাগুলোকে অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রদান করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাহেবের সাথে আলাপ করে অনুমতি পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরাও চাই অবৈধভাবে না থেকে বৈধভাবে এগুলো চলুক। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং তারাও একটি নিয়ম-নীতির আওতায় আসবে।

 

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাস চালিত অটো রিকসা প্রধান সড়কে চলাচল করতে পারবেনা। তবে তারা স্থানীয় সড়কগুলোতে চলাচল করতে পারবে। তারপরও যেহেতু সমস্যা হওয়ায় বন্ধ রাখা হয়েছে সেহেতু ডিসি স্যারের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।