নিয়মনীতি উপেক্ষা করে করোনার মধ্যে রায়পুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নিয়মনীতি উপেক্ষা করে করোনার মধ্যে রায়পুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় !



তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর), (খবর তরঙ্গ ডটকম)

করোনা সংক্রমণের এই দুঃসময়েও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না সদ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। অভিভাবকদের চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি দিতে ব্যর্থ হলে আদায় করা হচ্ছে জরিমানাও। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে টিউশন ফি দিতে না পারায় অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের ক্ষদ্ধ রয়েছেন অভিভাবকরা। 


সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি থাকায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ফি প্রদানে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ও জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায় করতে হবে। উপজেলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান শিক্ষকদের বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তাগন। কিন্তু  মমতাজেন্নেছা মোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সরকারের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করছে না এবং স্কুল টিউশন ফি যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় নিচ্ছে জরিমানাও।


ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের-এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত মার্চ-এপ্রিল, মে ও জুন মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দফায় দফায় টিউশন ফি পরিশোধে তাগিদ দিয়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছে ও আদায়ও করেছেন। নির্ধারিত ব্যাংকে টিউশন ফি জমা দিতে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে জরিমানা ছাড়া (বিলম্ব ফি) টিউশন ফি গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, এ পরিস্থিতিতেও বিলম্ব ফি গ্রহণ করায় অভিভাবকরা বিপদে পড়েছেন। অভিভাবকদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে থাকা নম্বরে ফোন করেন প্রতিবেদকনাম প্রকাশ না করে এক শিক্ষক এ অভিযোগের কোনো সদুত্তর দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিচালনা কমিটির এক সদস্য  বলেন, মহামারীর এ সময়ে টিউশন ফির চাপ দেওয়া অনুচিত। আর জরিমানা আদায় একেবারেই অনৈতিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক খরচ কমে গেছে করোনার সময়ে। তাই টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে নমনীয় হতে হবে। তিনি বলেন, মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক তাদের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে চাপ দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের দিনে-রাতে টেলিফোন করা হচ্ছে ফি পরিশোধের তাগিদ দিয়ে। এটিও বন্ধ হওয়া উচিত।


রায়পুর মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত ও ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ৩’শ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত।-কয়েকমাস আগে এক লন্ডন প্রবাসীর এ প্রতিষ্ঠানটি নিন্ম-মাধ্যমিক হিসাবে এমপিওভুক্ত হয়েছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমরা শিক্ষকরা-এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। প্রতিষ্ঠান থেকেও-৪ মাস বেতন না পেয়ে কষ্টে রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় হয়।

রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ মহামারি করোনার মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করতে পারবেন না। সবাইকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। মমতাজেন্নেছা মেমোরিযাল স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।।


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
রায়পুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ