রায়পুরে স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু: মামলা

স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ওষুধ আনতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু (৩০)। এঘটনায় বুধবার রাতে (১১ নভেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে (ধর্ষণ) স্বাস্থকর্মী আবদুল মান্নানকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধু।


ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে (১১ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপির চরকাছিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরে। অভিযুক্ত আবদুল মান্নান (৩৫) চরকাছিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থকর্মী ও একই এলাকার মৃত রফিক বেপারির ২য় ছেলে।


বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্থ গৃহবধুকে মেডিকেল রিপোটের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বাস্থকর্মী আব্দুল মান্নান এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার বাসায় কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে তার বড় ভাই ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক-শাহজালাল রাহুল। যা মামলাটি বর্তমানে-লক্ষ্মীপুর-আদালতে চলমান রয়েছে।


ওই গৃহবধু ও মামলার এজাহারে জানাযায়, মেঘনা নদী সংলগ্ন উপকুলীয় চরকাছিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধুর সাথে পরিচয় হয় স্বাস্থকর্মী আবদুল মান্নানের। দির্ঘদিন আবদুল মান্নান ওই গৃহবধুকে মোবাইলে ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উত্তক্ত করতো। এঘটনা ওই গৃহবধু  ও তার স্বামী লম্পট-আবদুল মান্নানকে সতর্ক করে ও পরিবারকে জানালেও কোন লাভ হয়নি। সবশেষে বুধবার দুপুরে ওই গৃহবধু স্বাস্থকেন্দ্রে গেলে অন্য মানুষের অনুপুস্থিতির সুযোগে নির্জন কক্ষে নিয়ে জোড় পুর্বক ধর্ষণ করে আবদুল মান্নান।
এঘটনায় স্বাস্থকর্মী আবদুল মান্নান নীজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ঘটনাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে এলাকার একটি পক্ষ মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে।


রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্রেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। উপযুক্ত তথ্য প্রমান, মেডিকেল রিপোট সঠিক হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে গিয়ে আবদুল মান্নান নামে স্বাস্থকর্মীর দ্বারা এক রোগী (গৃহবধু) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষিতা নারী বাদি হয়ে মামলা করেছেন। মেডিকেল রিপোটের জন্য ওই নারীকে সদর হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।