কুমিল্লার আদালতে মামলা-থানায় ডায়েরী ৭ বছরেও কান্না থামছে না স্বজনদের

আজ শুক্রবার এ দিন আসলে নীরবে- নিস্তব্দে কেটে যাচ্ছে কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল বিএনপি’র প্রান পুরুষ এ অঞ্চলের গণ মানুষের নেতা লাকসামের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ন কবির পারভেজ নিখোঁজের ৭ বছর গুম দিবস। শুধুমাত্র দু পরিবার ঘরোয়া ভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কোন কর্মসূচী নেই। অথচ বলতে বলতে দীর্ঘ ৭ বছর পার হলেও মনে হয় এইতো সেদিনের ঘটনা। তবে এ ঘটনার স্বাদ তীব্র ভাবে অনুভব করছেন অপহৃত দুই পরিবার-পরিজনরা।

২০১৩ সালের এ দিনে যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ নাটকীয় অভিযানের যন্ত্রনাময় সেই আর্তনাদের ভয়াল ৭টি বছর পার করছেন স্বজনরা। জেলার মানচিত্রে ওইদিন এ অঞ্চলের গণ মানুষের নেতা হিরু- পারভেজ নিখোঁজের কলংকময় দিনের একটি আজ ২৭ নভেম্বর। সর্বোচ্চ আতংক আর অপহৃত দুই পরিবারের জন্য সারা জীবনের অলিখিত এক অজানা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে স্বজনদের। ওই অপহৃত দু’জনের সন্ধান পেতে এবং স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে আজও অপেক্ষায় তারা।


২০১৩ সালের এ দিনে এ অঞ্চলের গণমানুষের নেতা অপহৃত ব্যাক্তিদের দু’পরিবার দাবী করছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ওই শীর্ষ নেতাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৭ বছরেও তাদের কোন হদিস পাচ্ছে না। হিরু-পারভেজ গুমের সাথে স্বজনদের অনেকে তুলনা করেছেন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের সাথে। সে সময় যেমনি পাক-হানাদার বহিনী লোকজনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গেলে তারা আর ঘরে ফেরত আসেনি। তেমনি কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে অপহৃত দুই নেতার পরিবার-পরিজনের। হিরু-পারভেজ এখনও বেঁচে আছেন, তারা ফিরে আসবে, না কি তাদের মেরে ফেলা হয়েছে তাহলে অন্তত দু’জনের লাশটি ফেরত দিন। কে দিবে স্বজনদের প্রশ্নের জবাব। হায়-রে কি বিচিত্র এ দেশ? আর আরো বেশি বিচিত্র এ অঞ্চলের নোংরা রাজনীতি।


অপহৃতদের স্বজনরা আরো জানায়, থানায় ডায়েরী, কুমিল্লার কোর্টে মামলা তবুও থামছে না স্বজন-ভক্তদের কান্না। এ অঞ্চলের গণ মানুষের নেতা হিরু-পারভেজ নিখোঁজে এ অঞ্চলে একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তের মানুষগুলো যেন একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া বিগত ৭ বছর যাবত নিখোঁজ লাকসামের দুই শীর্ষ নেতার ফিরে আসা কিংবা সন্ধানে স্বজনরাও ওইসব ডায়েরী ও মামলা নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অথচ মামলার সার্বিক কর্মকান্ড আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নিয়ন্ত্রনে থাকলেও সব কিছুই যেন পর্দার অন্তরালেই শেষ। ওইসব ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন সংস্থাগুলোর কতটুকু আন্তরিকতা বিদ্যমান তা কিন্তু এলাকার জনমনে নানাহ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর এ দিনে র‌্যাব-১১ পরিচয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সাদা পোষাকে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু ও পৌর বিএনপির সভাপতি- ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির পারভেজকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে আলীশ্বর নামক স্থান থেকে এবং অপর বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে নিখোঁজ হিরুর মালিকানাধীন লাকসাম ফ্লাওয়ার মিল থেকে নগদ টাকা ও বেশক’টি দামী মোবাইল সেটসহ আটক করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওই যৌথবাহিনীর অভিযান চালায়। ওইদিন গভীর রাতে অভিযানকারী যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আটক ১০ জনকে লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও অপর দুই শীর্ষ নেতা হিরু-পারভেজের ভাগ্যে কি ঘটেছে দীর্ঘ ৭ বছরেও সন্ধান দিতে পারেনি কোন সংস্থা।