সমরাস্ত্র কেনা ও পরমাণু কেন্দ্রে অর্থায়নে রাশিয়ার সঙ্গে একশো কোটি ডলারের চুক্তি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

সমরাস্ত্র কেনা ও পরমাণু কেন্দ্রে অর্থায়নে রাশিয়ার সঙ্গে একশো কোটি ডলারের চুক্তি



নিউজ ডেক্স, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় একশো কোটি ডলারের সমরাস্ত্র কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। মস্কো সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক বৈঠকের পর এ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন দুদেশের কর্মকর্তারা। এছাড়া একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারেও রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। মস্কো থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনি টেলিফোনে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় ঋণেই বাংলাদেশ এই সমরাস্ত্র কিনছে।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রয়োজনেই আমরা এই সমরাস্ত্র কিনবো। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের যে কাজ চলছে, সেই লক্ষ্যে এই সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে।”

পররাষ্ট্র দিপু মনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আরও একগুচ্ছ চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের রূপপুরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রাশিয়ার বাংলাদেশকে বহুদিন ধরেই সহযোগিতা দিচ্ছে।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা দিতেও রাজি হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনি বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং এর অর্থায়ন-দুটি ক্ষেত্রেই রাশিয়া সহযোগিতা দেবে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে তারা ঋণ দেবে। আবার প্রযুক্তির দিকটিও তাদের কাছ থেকেই আসবে।”

সমরাস্ত্র ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন
রাশিয়ার কাছ থেকে বাংলাদেশ যে বিপুল অর্থের সমরাস্ত্র কিনছে, সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ করে বাংলাদেশ এই সমঝোতার আওতায় সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাঙ্কবিধ্বংসী মিসাইল ও সাঁজোয়া যান ইত্যাদি যেমন কিনবে, তেমনি বিমানবাহিনীর জন্য কেনা হবে প্রশিক্ষণ জঙ্গি বিমান, পণ্যবাহী হেলিকপ্টার সহ নানা অস্ত্রসম্ভার।

কিন্তু নিরাপত্তাগত পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য এই সমরাস্ত্র ক্রয় কতটা যুক্তিযুক্ত?

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আবদুর রব খান  বলেন, অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো দেশে দুটি প্রশ্ন সবসময় উঠে। একটি হচ্ছে দেশটি কোন নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন কীনা। দ্বিতীয়ত সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এটি কতোটা জরুরি।

তিনি বলেন,“ স্বল্প এবং মধ্য মেয়াদে বাংলাদেশের জন্য কোন নিরাপত্তা হুমকি তিনি দেখছেন না। সেদিক থেকে এই সমরাস্ত্র ক্রয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রশ্নে হয়তো এই অস্ত্র ক্রয়ের কিছুটা যুক্তি থাকতে পারে।”

আবদুর রব খান বলেন, “বাংলাদেশ যেহেতু ‘সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট’, অর্থাৎ বিক্রেতার দেয়া ঋণেই এই অস্ত্র কিনছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। বিশেষ করে সেখানে সুদের হার যেহেতু যথেষ্ট চড়া।” সূত্র: বিবিসি।


অর্থনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ