ব্যাংক কোম্পানি আইন চূড়ান্ত অনুমোধন মন্ত্রীসভায়

ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তাদের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবন্ধ সঞ্চিতি, রিটেইন আর্নিংয়ের মোট পরিমাণে ২৫ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। বর্তমানে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা ৩ বছরের মধ্যে কমিয়ে আনতে হবে। আর ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুযায়ী এতোদিন ব্যাংকগুলো মোট দায়ের (আমানত ও মূলধন) ১০ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। সংশোধনীতে এখন থেকে প্রতিটি ব্যাংকে ৪ জন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখার শর্তারোপ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে পরিচালকদের সংখ্যা বেধে দেয়া হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, গত ৪ মার্চ এ আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। যাচাই বাছাইয়ের পর ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের বিধিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অনুমোদিত চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, এ আইন পাস হলে প্রতিটি ব্যাংকে ২০ জন পরিচালক থাকতে পারবেন, যাদের মধ্যে ৪জন হবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। আগের আইনে পরিচালকের কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা ছিল না। এছাড়া পরিচালকদের মেয়াদের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এতোদিন আলাদা নিয়ম অনুসরণ করলেও এ আইন পাস হলে এক মেয়াদে ৩ বছরের বেশি সময় কেউ পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে একজন পরিচালক পরপর দুই মেয়াদ পরিচালক থাকতে পারবেন। এরপর মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারো পরিচালক হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর বর্তমানে যারা ২ মেয়াদের বেশি সময় ধরে রয়েছেন তারা তাদের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।

আইনটি পাস হলে একই সময়ে একই ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না।

খসড়া আইনের ২৬(ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবন্ধ সঞ্চিতি, রিটেইন আর্নিংয়ের মোট পরিমানের ৫ শতাংশ এবং ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। তবে শরিয়াহ ব্যাংকিং বা ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়ম আগের মতোই থাকছে বলে সচিব জানান।

আইন লংঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা আদায় না হলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা গুণতে হবে। সমবায় সমিতির নামে কেউ যাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এ আইনে।

এছাড়া এ আইনের প্রয়োগ স্থগিত করার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সে উদ্যোগ নিতে পারবে। আগে কেবল সরকারই তা করতে পারত। প্রস্তাবিত আইনে খেলাপি ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেয়াদ পার হওয়ার ৬ মাস পরও ঋণ বা সুদ আদায় না হলে তা খেলাপি ঋণ হিসাবে গণ্য করা হবে নতুন আইনে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।