কুমিল্লার নিমসারে হরতালের ক্ষতি কোটি টাকা

প্রতিটি হরতালে কুমিল্লার সবচেয়ে বড় সবজির বাজার নিমসার বাজারে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয় এক কোটি টাকা। পাইকারী ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা জানান, হরতালের কারণে পন্য পরিবহন বন্ধ থাকায় এ লোকসান গুনতে হয়।
জানান, কাচা সবজি বাজারে আনার পর তা যদি বিক্রি করা না যায় তাহলে আবার তা ফেরত নিতে যে পরিবহন খরচ হয় তাতে কৃষকদের পোষে না। তাই বাজারে অনেকেই অবিক্রিত সবজি ফেলে যান।
বাজারের অন্য ইজারাদার হাজী মোঃ কবির হোসেন মেম্বার বলেন, প্রতি হরতালে নিমসার বাজারের লোকসান হয় প্রায় এক কোটি টাকা। রাজধানীসহ দেশের প্রায় ১০টি জেলায় এখানকার সবজি নিয়মিত সরবরাহ হয়। বাজারে একটি হিমাগার থাকলে এ লোকসান হতো না। হিমাগার না থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমান সবজি নষ্ট হয়।
বাজারের অন্য ইজারাদার কবির মেম্বার বলেন, “প্রতি হরতালে বাজারের লোকসান প্রায় কোটি টাকা। রাজধানীসহ দেশের প্রায় ১০টি জেলায় এখানকার সবজি নিয়মিত সরবরাহ হলেও হিমাগার না থাকায় কোটি কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। গত বুধবার বাজারে প্রায় ৫০ মণ টমেটো ও প্রায় দুই থেকে তিন হাজার পিচ ফুলকপি বিক্রি না হওয়ায় ফেলে যায় গৃহস্থরা।”

প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৯৮৮সালে গড়ে ওঠে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে বুড়িচংয়ের নিমসার সবজি বাজার। সবজির ভরা মওসুম শেষে বাজারটিতে এখন প্রতিদিনই কৃষকদের হাহাকার। রাজধানীসহ অন্য সর্বত্র সবজির দাম বাড়লেও হরতাল আর নানা কারণে বাজারে পাইকার নিয়মিত আসতে না পাড়ায় নিমসার বাজারে সবজি বিক্রি হচ্ছে নাম মাত্র দামে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪টাকা, ফুলকপি ৫ টাকা, মরিচ ১৫ টাকা, গাজর ১০টাকা, উস্তা ২২ টাকা, পটল ১৮ টাকা,  শসা ১৬ টাকা দরে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে আগত ব্যবসায়ী সালাম জানান, বাজারে কৃষকরা সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। রাস্তায় যানজট লাগলে আমাদের অনেক সবজি নষ্ট হয়। আর হরতালে কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই বাজারে হিমাগার থাকলে হয়তো কোটি কোটি টাকার সবজি পচে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত।

গৃহস্থরা জানান, সবজি মজুদ প্রচুর কিন্তু পাইকাররা আসতে পারছেন না বাজারটিতে। গত ১৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত মেঘনা গোমতী সেতুতে সংস্কার কাজ হওয়ায় ঢাকায় পণ্য যেতে হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পথ ঘুরে। এই দীর্ঘ পথের যানজটে সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক পাইকার এই বাজারে লেনদেন করেননি। হরতাল, ব্রিজ মেরামত আর রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ঢাকায় সবজি বাজারজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন আড়তদার আর পাইকাররা। তাই সবজির মজুদ থাকলেও নেই হিমাগার এতে পচন ধরছে এসব কাঁচামালে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান গুনছেন তারা।

নিমসার বাজারে সবজি হিমাগার স্থাপন করার দাবি দীর্ঘদিনের। কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধু সংরক্ষনের অভাবে, অথচ একই সবজি রাজধানী ও অন্য সকল বাজারে বিক্রি হচ্ছে উচ্চ মূল্যে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।