বাংলাদেশের এবারের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হার ৫.৮%: বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে  বাংলাদেশ এবার ৫ দশমিক ৮ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। গতবারের তুলনায় কম হলেও ভারত ও চীনের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো করবে বলে জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারত ও চীনের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা কম নির্ধারণ করা হয়। সে তুলনায় ভারত ও চীনের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিক অ্যান্ড কান্ট্রি সেক্টর কোঅর্ডিনেটর, বাংলাদেশ ও নেপাল রিজিয়নের সালমান জাঈদী এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, “চলতি অর্থবছরে ‍বাংলাদেশর অর্থনীতি দৃঢ়গতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অবস্থা ভালো। যদিও প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে অর্জন করা যাবেনা বলে মনে করছি।”

তিনি বলেন, “এবারের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হার ৫.৮ এর বেশি হবে না। এর কারণ হচ্ছে, শিল্প গড়তে যন্ত্রপাতি রফতানি ও আমদানি দুটোই কমেছে। তবে গতবছরের একই সময়ের চেয়ে এবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো।”

বাংলাদেশ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে জাহিদ হোসেন বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭.৫ থেকে যদি প্রবৃদ্ধি ৮ হয়, তাহলে দেড়কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। শুধু তাই-ই নয়, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।”

বাংলাদেশে ৬ দশমিক প্রবৃদ্ধি অর্জন না করেও কীভাবে উন্নয়ন ঘটছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারতে ৬.১ ও চীনে প্রবৃদ্ধির হার ৭.৫। এটা দিয়ে সেটাই প্রমাণিত হয় যে, তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম অগ্রগতি হয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

অন্যদিকে, নেপাল ও পাকিস্তান প্রবৃদ্ধি ৩.৮, সে বিবেচনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মুদ্রানীতি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার হারও কমেছে।”

তিনি বলেন, “চীনের ৮ কোটি কর্মসংস্থান দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ, একই কাজে বাংলাদেশের শ্রমিকের চেয়ে চীনের শ্রমিকদের ৫ গুণ বেশি মজুরি দিতে হয়। সে কারণে চীনের প্রবৃদ্ধি হার কম।”

জাহিদ হোসেন বিভিন্ন খাত উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ যদি তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশেষ করে কারখানা স্থাপনের জন্য ৪০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে বিইপিজেড তৈরি করে, ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, ভারত ও চীনের মতো কমখরচে বিনোয়াগ করতে পারে, বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট (বিওআই) বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে, অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলোকে (ঝুঁকিগুলো হচ্ছে- ইউরোজোনের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের রফতানি কমেছে, ইউএসএ-র সঙ্গে নীতিগত দিক থেকে পেছনে, শ্রমঅধিকার, জিএসপি সুবিধা না পাওয়া, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি কম থাকা, অর্থনৈতিক খাতে অস্থিতিশীল, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার দিক বিবেচনায়) মোকাবেলা করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে।

এর সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবদ্ধি ৬ দশমিকে উন্নীত হতে পারে।”

বাংলাদেশ যে উন্নয়নের দিকে আগাচ্ছে, তার উদাহরণ দিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, “এক দশকে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন ঘটেছে, তা পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘটেনি। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।”

তিনি বলেন, “৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মাত্র ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পেরেছিল, সেখানে ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দেড়কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার ওপরে তুলতে পেরেছে।

এর প্রধান কারণ হচ্ছে, শ্রমআয় বেড়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে, মানব সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ১৮টি দেশের একটি।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।