গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম গার্মেন্টস শিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে গার্মেন্টস শিল্প দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এ শিল্প রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সহায়তা। সরকারি, বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা। এমনটিই বললেন আলোচনায় অংশ নেয়া বক্তারা।

শনিবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ আয়োজিত সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি উঠে আসে।

বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ ফেডরেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সংকট দূর করতে রাজনৈতিক সহায়তা দরকার। প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা। তাহলেই সংকট কাটানো সম্ভব।”

এ ছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে এ সেক্টরের মালিকদের যে দূরত্ব রয়েছে তা দূর করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

তিনি বলেন, “গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের ভালো সম্পর্ক। শ্রমিকদের তাদের দায়বদ্ধতা বুঝাতে হবে।”

বুলবুল বলেন, “একজন শ্রমিক যখন বুঝাতে পারবে সে যে কারখানায় কাজ করছে তার দ্বারা তার রুটি–রুজি হয়। কারখানা ক্ষতি হওয়া মানে তার নিজের ক্ষতি হওয়া, দেশের ক্ষতি হওয়া। এজন্য প্রয়োজন মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। ”

এ সময় তিনি বলেন, “বিজিএমইএর সভাপতিসহ সংগঠনের নেতাদের উচিত দেশের সব গার্মেন্টস পরিদর্শন করা। শ্রমিকদের সঙ্গে সব কিছু শেয়ার করা।”

সাংবাদিক শ্যামল দত্ত বলেন, “ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মিডিয়ার একটি গ্যাপ রয়েছে। মিডিয়ার সঙ্গে গ্যাপটা কমিয়ে আনতে হবে।”

তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাজই হচ্ছে নেগেটিভ বিষয় বের করে আনা। আপনাদের কারখানায় নেগেটিভ ঘটলে মিডিয়ায় তা বের হয়ে আসবে।”

গার্মেন্টস শিল্পের সংকট দূর করণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিক রিয়াজুল হাসান খান বলেন, “গার্মেন্টস শিল্প প্রসারে প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুর।
তিনি বলেন, “গার্মেন্টস শিল্প থেকে দুই কোটি মানুষের জীবিকা অর্জিত হয়। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে তা চার মিলিয়নে উত্তীর্ণ হবে।”

তিনি আরো বলেন, “এ সেক্টর দিয়ে বিদেশীদের আকৃষ্ট করতে হলে অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।”

এ ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জিএসপি সমস্যার সমাধান করা। জিএসপি সুবিধা পেতে যতই সময়ক্ষেপন হবে ততই ক্ষতি হবে বলেও মত দেন তিনি।

বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের সঞ্চলনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মোর্শেদীসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।