আসন্ন বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা হবে ৭.৩ শতাংশ: এনবিআর চেয়ারম্যান

আসন্ন বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৩% এবং রাজস্ব কর এক লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন ।

রোববার সকালে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্যদের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য প্রকাশ করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান।

এ সময় বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, রাজস্ব বোর্ডের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেটের শুল্ক, মূসক ও কর অঞ্চলের কমিশনাররা, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের আকার হবে ২৫০ হাজার কোটি টাকা, যা মেয়াদকালের পঞ্চম  বছরে গিয়ে দ্বিগুণ হবে। বিগত বছরগুলোতে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের হারও বেড়েছে।

তিনি বাণিজ্যকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাজস্ব বিভাগ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে মত প্রকাশ করেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ১২৬৩টি পণ্যের ওপর সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ও রেগুলেটরি ডিউটি কমিয়ে মাত্র ১৭০টি পণ্যের ওপর তা বলবৎ থাকবে। দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসা, শিল্প, রাজস্ব ও ভোক্তাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতাদের বাজেটসংক্রান্ত প্রস্তাব ও বিভিন্ন দাবি বাস্তবসম্মত ও বিবেচনাযোগ্য হলেও চূড়ান্ত বাজেট তৈরির এ সময়ে কোনো প্রস্তাব-সুপারিশই আর আমলে নেয়ার  সুযোগ  নেই বলে জানান এনবিআরের চেয়ারম্যান।

ভবন নির্মাণ ব্যয়ের উৎস ও আয় ঘোষণাসংক্রান্ত জটিলতায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন করের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না  উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ভাড়া আদায় ও প্রদান করার নিয়ম চালু করা হলে ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়কে করের আওতায় আনা  সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ইতিমধ্যে চেম্বারের পক্ষ থেকে পাঠানো শুল্কসংক্রান্ত ৪৭টি, ভ্যাট ১৬টি এবং আয়করসংক্রান্ত ৪৪টি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি  মানবসম্পদ উন্নয়নে সেক্টরওয়াইজ এক্সপার্টাইজ তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, সম্ভাবনাময় শিল্প -সিরামিকস্, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, ঔষধ ও জাহাজ নির্মাণ ইত্যাদির আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ, লোকাল এলসির ক্ষেত্রে ৫% উৎসে কর বাতিল করা এবং দৈবচয়নের ক্ষেত্রে করদাতাদের হয়রানি লাঘব করতে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া স্বীকৃত এসেমব্লিং প্লান্টে ইলেক্ট্রনিক কম্পোন্যান্ট আমদানি করে ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরির ক্ষেত্রে শুল্কহার হ্রাস করা, গণপরিবহন ও আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ না করা, অবকাঠামো যেমন স্পেশাল ইকোনমিক জোন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ, মহেশখালীতে কয়ালাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে চিটাগাং চেম্বারের সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিজিএমইএর পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ ও প্রাক্তন প্রথমম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, রি-রোলিং মিলস্ সেক্টরের তপন সেন গুপ্ত, আলমাস শিমুল ও আনামুল হক ইকবাল, বারভিডার মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর), কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়শান্ত বিকাশ বড়ুয়া, বিকডার বেনজির চৌধুরী নিশান, ড. শওকতুল মেহের, দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের ওসমান গণি চৌধুরী, সিসিসি কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু, শিপ ব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশনের আবুল কাশেম মাস্টার, বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির জহুর আহমেদ ও জুয়েলারি সমিতির সভাপতি নুরুল আবছার চৌধুরী বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।