কুবি’র লাইব্রেরিতে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আসন ৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। নানবিধ সমস্যার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে পড়াশুনার আগ্রহ হরিয়ে ফেলছেন দিন দিন। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যায়ন করছেন। তবে প্রথম থেকেই এর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অবস্থা খুবই শোচনীয়। লাইব্রেরির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচরীদের অসদাচরনেরও আভিযোগ তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

 

প্রশাসনিক ভবনের পাচঁ তলার একটি রুম নিয়ে গড়ে ওঠা লাইব্রেরি সরজমিনে পরিদর্শণ করে দেখা যায়, এখানে আসন সংখ্যা মাত্র ৩৪টি। মোট ৩৬টি শেলফে বই এতই নগন্য যে, শিক্ষার্থীরা দিন দিন লাইব্রেরি বিমুখ হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে এখানে ১৭ টি বিভাগের জন্য বইয়ের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। পাশের একটি বড় রুমের মেঝেতে লাইন করে বই ও পত্রিকা রাখা। ঐ বইগুলো সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে থাকে বলে জানা যায়। বই রাখার মত পর্যাপ্ত শেলফ ও রুম না থাকায় এ ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

১৭টি জতীয় দৈনিক ও আর্ন্তজাতিক পত্রিকা রাখার কথা ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান জানালেও মূলত শিক্ষার্থীরা সব পত্রিকা পড়ার সুযোগ পান না। জানা যায় আর্ন্তজাতিক পত্রিকার কথা শিক্ষার্থীরা জানেনই না। শিক্ষার্থীরা চাইলে ঐ পত্রিকাগুলো দেয়া হয় বলে কাউন্টার থেকে জানান হয়। হরতাল-অবরোধে পত্রিকাগুলো পত্রিকার রুমে দেওয় হয় না। শিক্ষার্থীদের কিছু আসন দখল করে খেজুরে আলাপ করেন লাইব্রেরির কর্মচারীরা। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত লইব্রেরি খোলা রাখার দাবি বহু দিন ধরে শিক্ষার্থীরা করে আসছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের র্নিবাক ভূমিকা শিক্ষার্থীদের বারবার হতাশ করছে। অনেকটা আক্ষেপ প্রকাশ করে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী খোরশেদ বলেন, ‘লাইব্রেরি দিকে তাকালে মনে প্রশ্ন জাগে আমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট। সম্পদ নেইআমরা জানি এগুলো বাড়াতে চেষ্টা করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ভূমিকা আমরা দেখিনা বললেই চলে।’
লাইব্রেরির সাথে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছাচারি মনোভাব দেখান বলে একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, লাইব্রেরির কর্মচারীদের খারাপ ব্যাবহারের কারনে তারা খুবই বিস্মিত। লাইব্রেরির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসদাচরন সম্পর্কে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মোমেন বলেন, ‘লাইব্রেরির লোকজন আমাদের সাথে ভাল ব্যাবহার করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জেনেও এব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।’ গত বছর অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন মোঃ তারিক ভূঁঞা এক ছাত্রের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তা জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

 

লাইব্রেরির যাবতিয় সমস্যা সম্পর্কে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান তারিক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা স্থান সংকুলনের কারনে সব বই শেলফে সাজাতে পারি নাই। বইয়ের সল্পতা আছে তবে স্থান জরুরী। প্রশাসনের কাছে এ জন্য আবেদন করা হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসাদাচারনে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।