মন্তব্য প্রতিবেদন, তলিয়ে আছে ভিক্টোরিয়া কলেজের একমাত্র মাঠটি

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। ২০ টি বিষয়ে সম্মান ( অনার্স) এবং ১৭ টি বিষয়ে মাস্টার্স পড়–য়া  প্রায় ২৬ হাজার শিার্থীর প্রাণের স্পন্দন এবং উচ্চ শিার স্বপ্নের ক্যাম্পাস কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।

 

সময়ের সাথে সাথে এ কলেজে অবকাঠামোগত নানা উন্নয়নে হলেও এখনও রয়ে গেছে বহু সমস্যা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জলাবদ্দতা। বর্ষা মৌসুমে ক্যাম্পাস জুড়ে জলাদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে শুকনো মৌসুমে সমস্যা ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানে কেটে গেলেও সারা বছরই মাঠটি তলিয়ে থাকে পানিতে।

 
শারীরিক কসরত তথা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিযোগী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্চে কলেজের হাজার হাজার শিার্থী । কলেজ মাঠটি গত চার বছর যাবৎ পানিতে তলিয়ে আছে। যে মাঠে চর্চাকর অসংখ্য ক্রীড়াবিদ জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে। এ দিকে মাঠটি দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে মশার বসবাস ও উৎপাদনে দেশের অন্যতম স্থান হয়ে দাড়িয়েছে। ১৮৯৯ সালে রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত ও নবাব ফয়জুন্নেছার ১০ হাজার টাকার অনুদানে নিমির্ত এই কলেজটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যেমনি এক অভূর্তপূর্ব সাফল্যের ধারাবাহিকতা রা করেছে।

 

তেমনি তৈরী করেছে হাজারো বিশ্ব বরেণ্য। ব্যক্তিত্ববান ক্রীড়াবিদ,রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও শিাবিদ সহ অসংখ্য সফল মানুষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কলেজের সাবির্ক অবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও  র্ধমপুর এ অবস্থিত ডিগ্রী শাখার একমাত্র বিনোদনের কেন্দ্র বিন্দু বিশালকৃতির খেলার মাঠটি প্রায় ৪ বছর ধরে হাটু সমান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। যার কারনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,সৃষ্টি হচ্ছে মশা উৎপাদ ও মশার বসবাসের অভয়াশ্রম। দৈনন্দিন বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্চে প্রায় ২৬ হাজার শিার্থী।

 

বিষাক্ত পানি নর্দমায় র্পূণ এই মাঠটিতে হাজারো ছাত্রছাত্রীর পদাচরনে ও কোলাহলের বিপরীতে আজকাল কতগুলো স্থানীয় জনসাধারনের গরু ছাগলের পদাচারনে মুখরিত থাকে। যে মাঠে ছাত্ররা বিকালে বল নিয়ে দৌড়ানোর কথা কিন্তু সেখানে আজকাল গরুর জন্য ঘাস কাটার নির্ভর যোগ্য জায়গা হয়ে দাড়িয়েছে।

 

মাঠের কথা তুলতেই ইংরেজী বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র জাকির হোসেন বলেন আমাদের কলেজে কোন মাঠ আছে নাকি? আমি তো তাকে জলাশয় ভেবেছিলাম। নজরুল হলের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মাকছুদ ও আরেক বিভাগের একছাত্র বলেন এত বিশাল মাঠ থাকা সত্ত্বে ও গত ৬ বছর ধরে খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কোন ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক খেলা  খেলতে পারছি না।

 

এ ছাড়া নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কয়েকজন আমাদের প্রতিনিধি আজিম উল্যাহ হানিফকে বলেন এই মাঠের বিশাক্ত পানি আর ময়লা আবর্জনার কারণেই কলেজের একমাত্র আবাসিক ছাত্রাবাস কবি নজরুল হলে সারাবছরই মশার অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এই পানি অপসারনের দ্রুত  ব্যবস্থা নেওয়া।

 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ মাঠের দনি পাশে ঘেরা পানি অপসারণের ড্রেনটি সরাসরি কলেজের পূর্বদিকে অবস্থিত বিসিকের সাথে সম্পূক্ত। যার কারণে বিসিকের বিষাক্ত পানি ময়লা এই ড্রেন দিয়ে অতিবাহিত হয়ে কলেজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত তোয়া হাউজিং নামক স্থানে জমা হত।গত কয়েক বছরে তোয়া হাউজিংটি ক্রমান্বয়ে ভরাট হওয়ার কারণে এবং ড্রেনটি ক্রমান্বয়ে সরু হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না।

 

অপরদিকে কলেজ এলাকা থেকে তার আশপাশের এলাকার সকল পানি কলেজ মাঠে এসে জমা হয়। যার ফলশ্র“তিতে যেখানে থাকার কথা ছিল বিনোদন ও কোলাহলের আওয়ূাজ। সেখানে আজ পাওয়া  যায় নদর্মাযুক্ত পানি আর মশার গুনগুনারি বিরক্তিকর শব্দ। প্রফেসর ড. একে এম আছাদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে কলেজ অধ্য বলেন এই মাঠ ভরাট করতে হলে বিশাল বাজেটের প্রয়োজন।

 

তারপরও আমরা চেষ্টা করবো। গরু ছাগলের বিচরন সর্ম্পকে বলেন সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কার্যকর হলেই এই সমস্যার সমাধানে হবে। অতিরিক্ত মশা উৎপাদন হওয়ার হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট জহিরুল ইসলাম বলেন হলের পরিবেশ আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখলেই মশার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।