বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থী, কিন্তু শিক্ষার মান বাড়েনি

প্রতিবছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সেই অনুযায়ী শিক্ষার মান না বাড়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি, ট্রাস্টিবোর্ডসহ নানা বিষয় নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা।

 

সংকট সমাধানে ছাত্রসংসদ প্রচলনের মধ্যে দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি বাণিজ্যিক মানসিকতা ত্যাগের আহ্বান শিক্ষাবিদদের। এদিকে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবোর্ডে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি, শিক্ষক ও শিক্ষার মান, ট্রাস্টি বোর্ডসহ নানা বিষয় উঠে আসতে থাকে আলোচনায়। নানা বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়লেও বাড়েনি মান।

 

বেপরোয়া ছাত্ররাজনীতির ছোবল থেকে মুক্ত থাকলেও নানা ধরনের অসামাজিক ও দেশবিরোধী কাজের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিক কর্মকাণ্ড এখন প্রশ্নের মুখে বলে শিক্ষাবিদদের পর্যবেক্ষণ।

 

জবাবদিহিতার বাড়ানোর ক্ষেত্রে শিগগিরই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবোর্ডে একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা ভাবছে ইউজিসি।

 

ইউজিসির চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘পর্যবেক্ষক ফিরে এসে একটি রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট কোনো অনিয়মের বিষয় চিহ্নিত হলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

 

ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুদ্ধ রাজনীতি, যোগ্য নেতৃত্ব ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। সংকট থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের বাণিজ্যিক মানসিকতা পরিহারেরও জোর তাগিদ দেন তারা।

 

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ইতিহাসের পাঠ, সাহিত্যের পাঠ ও দর্শনের পাঠ এগুলো অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু করা উচিত।’

 

ঢালাওভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দোষারোপের পরিবর্তে শিক্ষক, অভিভাবক ও সরকারকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

 

কেবল প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ ও সময়োপযোগী করার পরামর্শ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।