রাজশাহীতে বিচারকের রায় জালিয়াতি করে আসামি মুক্ত

রাজশাহী,০৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- রাজশাহীর আদালতে বিচারকের রায় জালিয়াতি করে মাদক মামলায় দণ্ড পাওয়া আরিফ নামে এক আসামিকে জেল থেকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে।গত ২৮ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।এদিকে, জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ওই আদালতের পেশকার সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছেন জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদ।এছাড়া ছাড়া পাওয়া আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার সোহেল রানা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট নগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আরত আলী শেখের ছেলে মো. আরিফ ৩ কেজি গাঁজাসহ নগর ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় ওইদিন নগর ডিবি পুলিশের ওসি সানাউল হক বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন (মামলা নম্বর-১৮/০৮, তারিখ-১৭/০৮/২০০৮)।

এ মামলার রায়ে গত ২৮ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল আসামি মো. আরিফকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেন।

রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তবে রায় ঘোষণার একদিন পর রাজশাহী বারের একজন আইনজীবীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দণ্ড পাওয়া আসামি আরিফকে জালিয়াতির মাধ্যমে জেল থেকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আর জালিয়াতির এ কাজটি করেছেন ওই আদালতের পেশকার সোহেল রানা।

এ ঘটনায় আইনজীবীরা জেলা ও দায়রা জজের কাছে অভিযোগ করেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদ পেশকার সোহেল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজশাহী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান চাঁদ জানান, আরিফের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য আইনের ১৯(১) এর ৭(ক) ধারার মামলাটির শুনানি তিনি করছিলেন। হঠাৎ করে আরিফ তাকে জানান, ওই মামলার শুনানি করতে হবে না। তিনি আদালতের লোকজনকে ম্যানেজ করে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যাবেন।

তিনি জানান, বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। শুনানি ছাড়া খালাস পাওয়ার রহস্য জানার জন্য তিনি তার সহকারী জুনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। গত ২৮ নভেম্বর এ মামলার ধার্য দিন ছিল।

ওইদিন দুপুরে অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন আদালতে গিয়ে জানতে পারেন আসামি আরিফ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩ ধারা অনুযায়ী আদালতে তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। এ কারণে আদালতের বিচারক তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, এরপর আদালতের হাজতখানাখায় গিয়ে ওই আসামির সন্ধান করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

অ্যাডভোকেট বেলাল উদ্দিন জানান, আদালতের হাজতখানায় গিয়ে আরিফের খোঁজ করা হলে সেখানে দায়িত্বপালনকারী এসআই মনির হোসেন জানান- তার জামিন হয়ে গেছে। পেশকারের পাঠানো একটি জামিন সংক্রান্ত চিরকুট দেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে বিচারকের রায়ের কপি দেখার পর তারা নিশ্চিত হন ওই আসামির জামিন হয়নি। পেশকার জামিনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালত পুলিশের কাছে চিরকুট পাঠিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।