পুলিশি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের আবেদন। - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পুলিশি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের আবেদন।



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

লিমনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলা থেকে র‌্যাবের ছয় সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেছেন লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম।
আজ বৃহস্পতিবার লিমনের মা হেনোয়ারা বেগমের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির ও মানিক আচার্য ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এই আবেদন করেন।
আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান আবেদন গ্রহণ করে আগামী ১৭ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন। গত ১৪ আগস্ট রাজাপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুল হালিম তালুকদার বরিশাল র‌্যাব-৮-এর উপপরিচালক লুত্ফর রহমানসহ র‌্যাবের ছয় সদস্যকে লিমন হত্যাচেষ্টার মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে একই আদালতে এই মামলা করেছিলেন।
এদিকে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়াও লিমনের ওপর নিষ্ঠুরতার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তাঁরা। লিমনের পক্ষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ সকালে ঝালকাঠিতে যায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হামিদা হোসেন এবং জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তাঁরা লঞ্চে করে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঝালকাঠিতে পৌঁছান। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা মাইক্রোবাসে করে লিমনের গ্রামের বাড়ি রাজাপুরের সাতুরিয়ার ইঁদুরবাড়ী সেতু এলাকায় যান। সেখানে গেলে লিমন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হামিদা হোসেনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিনিধিদল লিমনকে নিয়ে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব চত্বরে যায়। সেখানে লিমনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক রেহনুমা আহমেদ, নাসিম আখতার হোসাইন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবীর, বিচারপতি (অব.) রেজাউল করিম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উপপরিচালক নিনা গোস্বামী, লেখক অদিতি ফাল্গুনী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ ১৪ জন।
অন্যদিকে লিমনের জন্য ন্যায়বিচারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। আজ বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই দাবি জানান।
লিমনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দেশের নাগরিক ও মানবাধিকার রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমর্থনে একটি সর্বজনগ্রাহ্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, তদন্তের ভিত্তিতে লিমনের পা হারানোর জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদান, লিমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইন-ঊর্ধ্ব ক্ষমতা প্রয়োগের সব বিশেষ অধিকার বাতিল করে এগুলোকে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ঢেলে সাজানোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের এলিট ফোর্স র‌্যাব অপরাধী নির্মূলের অজুহাতে একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। সরকারও বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দিয়েছে, এটা নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আদালত লিমনের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা করা তো দূরের কথা, সরকার লিমনের চিকিত্সার ব্যাপারে কোনো খোঁজখবরও নেয়নি।


পূর্বের সংবাদ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১