১০ বছরের শিশু হত্যা বিস্কুট খাওয়ার অপরাধে

নিউজ ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর(খবর তরঙ্গ ডটকম)-না বলে বিস্কুট খাবার অপরাধে দেয়ালে মাথা ঠুকে ঠুকে সুখী (১০) নামের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলা এলাকায় এ নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে সুখীর।জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলা এলাকায় এক ফ্ল্যাট বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত সুখী। সেখানে অমানুষিক পরিশ্রম করত সে। কাজের মধ্যে গৃহকর্তাকে না বলে সে কয়েকটি বিস্কুট খেয়ে ফেলেছিল। সুখী কাজের মেয়ে। না বলে খেয়ে ফেলার অপরাধেই তাকে দেয়ালে ঠুকে ঠুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে গৃহকর্তা কামালের বাড়ির লোকজন। এ সময়ে তার আর্তচিৎকারেও মন গলেনি পাষণ্ডদের।

যে বয়সে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে তার স্কুলে যাবার কথা, অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করার কথা দারিদ্রের নির্মম কষাঘাতে তাকে কাজ করতে বাধ্য হতে হয়। অত:পর না বলে কয়েকটি বিস্কুট খাবার অপরাধে তাকে নৃশংসভাবে দেয়ালে ঠুকে ঠুকে মৃত্যুর ঠেলে দেয়া হয়।

গুরুতর আহত সুখীকে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে পরে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনদিন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করে মঙ্গলবার বিকেলে মারা যায় সে। নিহতের পরিবার নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে। সুখীর মৃত্যুর খবরে পালিয়ে গেছে তার নির্যাতনকারীরা। এ ঘটনায় সুখীর বাবা খোকন পাঠান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আবদুল মতিন জানান, সুখীর বাবা হতদরিদ্র খোকন পাঠান ইউসুফ নামে এক দালালের মাধ্যমে গত ৫ ডিসেম্বর তার মেয়ে সুখীকে শহরের ১২৩ নিউ চাষাড়া জামতলার বাসিন্দা কামালের বাড়িতে কাজে দেন। এর ৩ দিনের মাথায় ৮ ডিসেম্বর সুখী না বলে বিস্কুট খেয়ে ফেলায় বাড়ির লোকজন মিলে তাকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে।

সুখীর বাবা খোকন জানান, দেয়ালে ঠুকে ঠুকে অমানুষিক নির্যাতন করার পর মারাত্মকভাবে আহত সুখীকে চিকিৎসা না করিয়ে দালাল ইউসুফকে ডেকে এনে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। দালাল ইউসুফ শহরের খাঁনপুরে ফুফুর বাড়িতে তাকে রেখে আসে। সুখীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করান তার ফুফু। এতেও অবস্থার উন্নতি না হলে সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয় তাকে। মেয়েকে নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে সুখীর বাবা হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় সুখীর কাছ থেকে জানতে পারেন, না বলে বিস্কুট খাওয়ায় সাহেব ও বিবি সাহেব মিলে তাকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে মারধর করেছে। মঙ্গলবার বিকালে মারা যায় সুখী।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আবদুল মতিন জানান, ঘটনার পর থেকে কামাল ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।