ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী নির্যাতন বন্ধে দুই নেত্রীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:টিআইবি'র - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী নির্যাতন বন্ধে দুই নেত্রীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:টিআইবি’র



নিউজ ডেক্স, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

দেশে নারী অধিকার আদায়, ধর্ষণসহ সব ধরনের নারী নির্যাতন বন্ধে দুই নেত্রীকে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ধর্ষণ ও গণধর্ষণসহ সব ধরনের যৌন নির্যাতন, নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা করার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী। এই দুই দলের নারীনেত্রীরা ২২ বছর ধরে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নারীর অধিকার নিয়ে আমাদের শহীদ মিনারে দাঁড়াতে হচ্ছে।” তাই দুই প্রধান নারীনেত্রীকে ভেদাভেদ ভুলে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে বলেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতায় আমাদের  তুরণ সমাজ আজ রুখে দাঁড়িয়েছে, শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তবে এটি হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশ অনেক দিক দিয়ে একটি ব্যতিক্রমী দেশ। আমাদের গর্বের অনেক বিষয় আছে। তবে আমাদের কিছু কিছু কাজ আমাদের এই গর্বকে কমিয়ে দিচ্ছে। সবার সমান অধিকার এই নীতিতে দেশ স্বাধীন হয়েছে।”  সবার অধিকার আদায়ের জন্য সরকার ও বিরোধীদলকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “যাদের মানুষ্যত্ব নেই, তাদের দ্বারাই নারী ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপকর্ম করা সম্ভব। যাদের মনুষ্যত্ব আছে তারা এ কাজ কখনোই করতে পারবে না। আর এই অবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। এই অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য জনমত গঠন করতে হবে। আর আমাদের তরুণ সমাজকে বুঝাতে হবে নারী ও পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই।”
তিনি বলেন, “ এই অভস্থার পরিবর্তনের জন্য সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। লজ্জা, ঘৃণা নিয়ে কেন মেয়েটি বা নারীটি আত্মহনন করবেন, তিনি কেন জীবন দেবেন? এ ব্যর্থতা আমাদের।” এ অবস্থার একদিন পরিবর্তন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক রাশিদা হোসেন বলেন, “আমাদের সমাজ থেকে এই ধরনের অপরাধ দূর করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর সবার মনে রাখতে হবে নারীও সমাজের মানুষ।”

কবি কাজী রোজি বলেন, “ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের জোর আওয়াজ তোলতে হবে। আর এই মোমবাতির মতো আমাদের অন্তরে যেন প্রজ্বলন হয় যে আর কোনো নারী যেন নির্যাতিত না হন।”

নাট্যকার রোকেয়া রফিক বেবি বলে, “আমাদের ধর্ষণকে ‘না’ বলতে হবে। আমাদের দেশে এটা এখন একটি স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদেরকে ধর্ষণ করা হয়েছে। নারী নির্যাতনের মাধ্যমে নারীদের স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে।” নারী নির্যাতন বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে সারা দেশের ধর্ষণসহ নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধে প্রায় ছয় শতাধিক মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলসহ ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন। সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে।


পূর্বের সংবাদ