আগুন নেভানো ও জরুরি নির্গমনে প্রশিক্ষণ দেবে ওয়ালমার্ট

নিউজ ডেস্ক,নভেম্বর ২৬ (খবর তরঙ্গ ডটকম)- সাভারের আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে তৈরি হত ওয়ালমার্টের মত বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডের পোশাক।ওই গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিক মারা যাওয়ার পর বিদেশি ক্রেতাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ওয়ালমার্টের মত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে শুধু পোশাক আমদানি করে না তারা গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যগত দিক ও বেতন ভাতার মত বিভিন্ন বিষয়গুলোও বিবেচনা করে।তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর জরুরি নির্গমন পথ ছিল না বা ওই কারখানা ভবন থেকে শ্রমিকরা প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে হাত পা ভেঙ্গে আহত হয়েছেন এধরনের খবর গার্মেন্টস ‘বায়ার’দের মধ্যে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া এবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে অন্তত সাতশ’ গার্মেন্টস কর্মী কাজ করতেন যারা মার্কিন ক্রেতাদের জন্যে পোশাক তৈরি করতেন।

এছাড়া গত পাঁচ বছরে এধরনের অগ্নিকাণ্ডে গার্মেন্টস শ্রমিক হতাহতের কথা উল্লেখ করে এবিসি বলছে, বিশ্বে বাংলাদেশি গার্মেন্টস শ্রমিক সবচেয়ে সস্তায় পোশাক তৈরি করে। কিন্তু তাদের কাজের পরিবেশ সন্তোষজনক নয়।

এদিকে শ্রমিকদের স্বার্থ দেখে এমন একটি মার্কিন ভিত্তিক সংগঠন ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়ামের নির্বাহি পরিচালক স্কট নোভা এবিসিকে অভিযোগ করেছেন, বারবার বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

স্কট নোভা আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় যে কোনো দেশের কারখানার শ্রমিকদের জন্যে অগ্নিকাণ্ডের মত ঘটনা ভয়াবহ একটি বিষয়।

এবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরি থেকে আরো স্বনামধন্য বায়াররা পোশাক আমদানি করে থাকেন।

স্কট নোভা বলেন, ওয়ালমার্ট হোক বা অন্য কোনো ব্রান্ড হোক যেসব বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোনো দেশ থেকে পোশাক আমদানি করে আর সেসব কারখানায় যদি শ্রমিকদের নিরাপত্তা না থাকে, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটে তাহলে তা ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে এক বিরাট নেতিবাচক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

নোভা আরো বলেন, ওয়ালমার্ট জানে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কি ঘটছে এবং দেশটিতে তাদের লোকবল তদারকি করে থাকে।

ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে তাজরিন ফ্যাক্টরিকে গত বছর এধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্যে সতর্ক করে একটি চিঠিও দেয়া হয়।

এদিকে ওয়ালমার্ট তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদন জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে তারা যেসব গার্মেন্টস কারখানা থেকে পোশাক আমদানি করে সেখানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।

এজন্যে ওয়ালমার্ট বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে আগুন লাগলে শ্রমিকরা কিভাবে দ্রুত তা নেভাতে পারে বা জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে তার ধারাবাহিক মহড়ার ব্যবস্থা থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।