প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মার্কিনরা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মার্কিনরা



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা,  ১৫ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-  গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতবাক যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্ব। একজন ২০ বছর বয়সী তরুণ কেন বা কী কারণে এমন ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হতে পারেন, তা এখন সবার কাছে কৌতূহলের বিষয়।
পুলিশ ও তদন্তকারীরা আততায়ী অ্যাডাম লানজার অতীত জীবন খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। হয়তো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও অনেক তথ্য খুঁজে পাবেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত অনেক প্রশ্ন থাকলেও কোনো উত্তর নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাডাম কানেকটিকাটের নিউটাউন শহরের স্যান্ডি হুক প্রাথমিক স্কুলের পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সী ২০ জন শিশুকে এবং ছয়জন বয়স্ক ব্যক্তিকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন।
স্কুলের পাশে একটি বাসায় একজন নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি অ্যাডামের মা কি না, তা এখনো পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

সমাজের ভেতরে নৃশংসতা
অ্যাডামের দুজন সাবেক সহপাঠী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘সে ছিল একজন লাজুক ছেলে। তবে অসাধারণ মেধাবী।’ টিম আর্নন নামের আরেক সহপাঠী বলেন, ‘স্কুলে সে সবার চেয়ে ভালোভাবে আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে আসত। বেশির ভাগ সময় সে খাকি প্যান্ট ও আনুষ্ঠানিক শার্ট পরত। সে এত সাবধানী ছিল যে অনেক সময় শার্টে পকেটরক্ষক ব্যবহার করত।’
টিমের সঙ্গে অ্যাডাম উচ্চবিদ্যালয়ের অডিওভিজ্যুয়াল ক্লাবে ছিলেন। তখন তাঁরা অবসরে একসঙ্গে ভিডিও গেম খেলতেন। টিম বলেন, ‘ক্লাবটি ছিল একেবারে সাদামাটা ছেলেদের আড্ডাখানা এবং তাঁরা তাঁদের ওই ছোট ক্লাবেই নিজেদের একটি জগত্ তৈরি করেছিলেন।’
টিম বলেন, ‘স্কুলে ভালো ফল করার জন্য অ্যাডাম লানজার মা-বাবা তার ওপর খুব চাপ দিতেন। মা লানজাকে সবচেয়ে কেতাদুরস্ত হওয়ার জন্য এবং স্কুলের পড়া তৈরি করার জন্য পীড়াপীড়ি করতেন।’
রয়টার্স জানায়, সরকারি নথি অনুযায়ী, ন্যান্সি লানজা ও তাঁর স্বামী পিটার লানজার বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০০৮ সালে। তবে এ ব্যাপারে পিটার লানজার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খামারবাড়ির মালিক ড্যান হোমস জানান, ন্যান্সি ছিলেন বন্দুকপাগল। বিভিন্ন ধরনের বন্দুক সংগ্রহ করা ছিল ন্যান্সির শখ। একবার ন্যান্সি তাঁকে একটি ‘হাই-এন্ড রাইফেল’ দেখিয়েছিলেন। হোমস বলেন, ‘তিনি (ন্যান্সি) বলেছিলেন, তিনি প্রায়ই লক্ষ্যভেদের চর্চা করার জন্য সন্তানদের নিয়ে চাঁদমারিতে যেতেন।’
ন্যান্সি সম্পর্কে হোমস আরও বলেন, ‘তিনি ছিলেন খুবই ভালো ও আন্তরিক। সব সময় অন্যের কাজের প্রশংসা করতেন।’

রাষ্ট্রের ভেতরেই নৃশংসতা
এ হত্যাকাণ্ডের পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। দিন দিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। অস্ত্র রাখা যেন একটি সাংস্কৃতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ওই দেশে সহজে ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র ও রাইফেল হাতের কাছে পাওয়া খুবই সহজ ব্যাপার। যেকোনো মার্কিন নাগরিক এসব অস্ত্র কিনতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো অনেক দিন ধরে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে কয়েকবার অস্ত্রের সহজ কেনাবেচা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের দাপট অনেক। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সব উদ্যোগ ভেস্তে যায় ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী লবির কারণে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার মাত্রা ক্রমে বাড়ছে। স্কুলসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ড নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
তবে, এবারের হত্যাকাণ্ডটি সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগে সবচেয়ে ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। কলোরাডোর লিটলটনের কলাম্বাইন উচ্চবিদ্যালয়ে দুজন তরুণ আততায়ী ১৩ জনকে হত্যা করেন। পরে তাঁরা আত্মহত্যা করেন।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর খবরে বলা হয়েছে, অ্যাডাম লানজা একটি সিগ সয়ের ও একটি গ্লোক মডেলের বন্দুক ব্যবহার করেছেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘বুশমাস্টার পয়েন্ট ২২৩এম৪ কার্বাইন রাইফেল’ও উদ্ধার করেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র ও ‘অবৈধ অস্ত্রবিরোধী মেয়রেরা’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মিশেল ব্লুমবার্গ বলেন, ‘একটি কিন্ডারগার্টেনে এমন গণহত্যার কথা ভাবাই যায় না। আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। বড় বড় কথা অনেক শোনা হয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস, কারও পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।’


পূর্বের সংবাদ