বোমা হামলায় পাকিস্তানে নিহত ১১৪ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বোমা হামলায় পাকিস্তানে নিহত ১১৪



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

পাকিস্তানের দুটি শহরে গতকাল বৃহস্পতিবার আলাদা বোমা হামলায় ১১৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০০ জন। বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা শহরের আলমদার রোডে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুটি পৃথক বোমা হামলায় কমপক্ষে ৮১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২১ জন। গতকাল বিকেলে কোয়েটার বাচা খান চক এলাকায় আরেকটি বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়। এ ছাড়া গতকাল সোয়াতের মিংগোরা শহরের উপকণ্ঠে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে এক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। আজ শুক্রবার রয়টার্স ও ডন অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
আলমদার বাজারের নিহত লোকজনের মধ্যে অধিকাংশ হাজরা শিয়া সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া নিহত লোকদের মধ্যে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের একজন ক্যামেরাম্যান ও একজন প্রতিবেদক, একটি সংবাদ সংস্থার কম্পিউটার অপারেটর এবং নয়জন পুলিশ ও ২০ জন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মীর জুবায়েদ মাহমুদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আলমদার বাজারের স্নুকার ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে দুটি আলাদা বোমা হামলায় ৮১ জন মারা গেছে, আহত হয়েছে ১২১ জন।
পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, আলমদার বাজারে প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে একটি স্নুকার ক্লাবে। রাতে সেখানে সদস্যরা খেলায় মগ্ন থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি ভেতরে ঢুকে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণের ঘটায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ইদি ট্রাস্টের সদস্য এবং গণমাধ্যমের কর্মীরা ছুটে যান।
প্রথম বিস্ফোরণের ১০ মিনিট পর স্নুকার ক্লাবের বাইরে রাস্তায় রাখা একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, গণমাধ্যমের কর্মী, উদ্ধারকর্মীসহ অনেকে নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সামা টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদক সাইফুল্লাহ বালুচ, আলোকচিত্রী ইমরান শেখ, একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া প্রথম বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে যাওয়া গণমাধ্যমের অনেক কর্মী দ্বিতীয় বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।
পর পর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় স্নুকার ক্লাব ও এর আশপাশের প্রায় ৫০টি দোকান পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার বিদ্যুতের ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুটি হামলায় নিহত ও আহত লোকজনকে উদ্ধারে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের। কোয়েটা শহরের বেসামরিক হাসপাতাল ও যৌথ সামরিক হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন লস্কর-ই-জাংভির মুখপাত্র এসব হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
গতকাল বিকেলে কোয়েটার জনবহুল বাজার এলাকা বাচা খান চক এলাকায় আরেকটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়। নিহত লোকজনের মধ্যে নারী ও শিশুসহ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্যও রয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনাইটেড বালুচ আর্মি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সীমান্তবর্তী মাশকে, আওয়ারান ও বোলান এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
গতকাল সোয়াতের মিংগোরা শহরের উপকণ্ঠে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে এক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা গুল আফজাল এটিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে দাবি করেন। মিংগোরার পুলিশ কর্মকর্তা আখতার হায়াত জানান, তাবলিগ জামাতের একটি সাপ্তাহিক সমাবেশে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।


পূর্বের সংবাদ