ফাঁসি দিতে সংশোধিত আইন ব্যবহার করবে সরকার, আশঙ্কা করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

চলমান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষীসাব্যস্ত হওয়া আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রেখে আনা আইন সংশোধনের প্রস্তাব না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। শুক্রবার এক বিবৃতিতে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির বাংলাদেশ বিভাগের গবেষক আব্বাস ফয়েজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিতে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগে সরকার কর্তৃক সংশোধিত আইন ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।’ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিচারে ২০১০ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠন করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষকে ট্রাইব্যুনালে কারাদণ্ড প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আপিলের সুযোগ দিয়ে সংসদে আইসিটি আইন উত্থাপন করা হয়েছে যা আগামীকাল রোববার পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ বিভাগের গবেষক আব্বাস ফয়েজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিতে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগে সরকার কর্তৃক সংশোধিত আইন ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সরকারকে এই উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে শাস্তি প্রদানের সবচেয়ে নৃশংস ও অমানবিক একটি দণ্ড। সরকারের উচিত তা বিলুপ্ত করা, দাবি করা নয়।’

আব্বাস ফয়েজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ৪০ বছরের দায়মুক্তি অবসানে ঐতিহাসিক সুযোগ আইসিটি। এক্ষেত্রে ওই অপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে; কিন্তু একইসাথে অভিযুক্তদের মানবাধিকারের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া কোনো জবাব হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড আবেদনের সুযোগ রেখে আইন করতে গিয়ে সরকার সংসদে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে না।’

আব্বাস বলেন, ‘সরকার যদি ১৯৭১ সালের গণহারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে এখন তাদের শান্ত থাকার সময় এবং বিচারের ক্ষেত্রে নিজেদের মনোভাব বিবেচনায় করা উচিত। সরকারের উচিত ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যাতে জনগণ ও কর্তৃপক্ষে চাওয়া অনুযায়ী রায় না দেয় সে চাপ কমানো।’

আইসিটির সমালোচকদের নানাভাবে হুমকি দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, সরকারের উচিত আইসিটির সমালোচকদের নিরাপত্তা এবং তাদের বাক-স্বাধীনতা অনুশীলনের অধিকার নিশ্চিত করা।’

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা অনুযায়ী অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতির ব্যতিক্রম ছাড়া নৃশংস, অমানবিক ও ঘৃন্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সব মামলার ক্ষেত্রেই বিরোধিতা করে অ্যামনেস্টি।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার শাস্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়েছে।

সূত্র:আরটিএনএন ডট নেট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।