নিরস্ত্রদের ওপর গুলি ও গণগ্রেফতার বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচে’র

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণাত্মক আচরণ এবং সহিংসতা পরিহারের আবেদন জানিয়েছে । ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলমান সহিংসতায় শিশুসহ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়া এবং সহিংসতার বিষয়টি তদন্ত করতে আলাদা তদন্ত কমিশন গঠনেরও আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এছাড়াও বিক্ষোভকারীদেরও আক্রমণাত্মক পথ পরিহারের আবেদন জানানো হয়।

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ৩ মে এক প্রতিবেদনে এই  আহ্বান জানায় এইচআরডব্লিউ। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়, পুলিশ, বিজিবি এবং র্যা ব নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি বর্ষণ এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। চালানো হয় গণগ্রেফতার। দেশটির রাজধানী ঢাকাসহ উত্তর এবং দক্ষিণের জেলায় এই অভিযান চালানো হয়।

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “বিক্ষোভকারীদের দমাতে কোনো রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। যারা নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন সরকারের উচিত দ্রুত তাদের পরিবর্তন করা।”

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নামাজ শেষে ফেরার পথে তার পরিবারের ১৭ বছরের নিরস্ত্র তরুণকে গুলি করা হয়। ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমি দেখি তার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। আমার জীবনে সেটাই প্রথম দেখা রক্তাক্ত লাশ। তাই আমি ঘাবড়ে যাই। তখনো গুলি করা হচ্ছিল তাই দৌড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করি। র্যা ব অফিসাররা গুলি করা বন্ধ করে তার লাশ গাড়িতে উঠিয়ে নেয়।”

বিরোধী দলের প্রতি আক্রমণাত্মক পথ পরিহারের আহ্বান জানায় এইচআরডব্লিউ। আট পুলিশ এবং তিন আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এপ্রিলের ১১ তারিখ হরতালে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৭ বছরের তরুণসহ তিনজন নিহত হয়। প্রকাশ্যে তাদের লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

প্রতিবেদনে হেফাজতে ইসলামের গত ৬ এপ্রিলের লংমার্চ এবং ৫ মে’র ঢাকা অবরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।